স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়া শেরপুর উপজেলার মোঃ শাহ জামাল (৩৫) পিতা মৃত আকবর আলী ওরফে সাধু (৬০), গ্রাম ধরমোকাম মধ্য পাড়া-মাজার সংলগ্ন থানা শেরপুর। বাদীর পিতা আকবর আলী সাধু (৬০) গত শনিবার ২২ মার্চ রাতে বাড়ী থেকে কয়েল কেনার জন্য একই এলাকার ধড়মোকাম উত্তরপাড়া গ্রামস্থ জনৈক মোঃ আরিফ এর দোকানে যায়। তখন বাদী তার শয়ন রুমে ঘুমাইয়া পরেন। রাত সাড়ে ১১ টায় বাদীর বাড়ির পাশে চাতাল থেকে ডাক চিৎকার শুনিয়া বাদীর ঘুম ভাঙ্গিয়া গেলে বাদী ঘুম থেকে উঠিয়া সেখানে গিয়া লোকজন মারফত জানিতে পারেন যে, ধড়মোকাম গ্রামস্থ শাহ তুরকান মাজারের পশ্চিম পাশে চার রাস্তার মোড়ে পাকা রাস্তার উপর কে বা কাহারা তার বাবাকে একাকী পাইয়া এলাপাথারীভাবে ধারালো অস্ত্র দ্বারা কোপাইয়া রক্তাক্ত জখম করিয়া হত্যা করিয়াছে। উক্ত সংবাদ পাপ্ত হইয়া বাদী দ্রুত উক্ত শেরপুর থানাধীন ১০নং শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধড়মোকাম গ্রাম শাহ তুরকান মাজারের পশ্চিম পাশে চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে পাকা রাস্তার উপর তার বাবা আকবর আলী ওরফে সাধুর মৃত দেহ চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখিতে পায় সনাক্ত করেন। বাদীর বাবার বাম কপালের উপরে মাথার বাম পাশে এবং ডান ও বাম চোয়ালের নিচে গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম দেখিতে পান। বাদীর বাবার শরীর গরম থাকায় জীবিত আছে ভেবে বাদীসহ উপস্থিত লোকজন তাহাকে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার বাবাকে মৃত ঘোষনা করে। ইতিমধ্যে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনার কথা জানতে পারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শেরপুর, বগুড়া আসিয়া বাদীর পিতার লাশের সুরতহাল করাসহ আনুসঙ্গীক কার্ষক্রম করে তার বাবার মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়া প্রেরন করে। পরবর্তীতে বাদী তার প্রতিবেশী মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৬০) ও তাহার সাথে থাকা অপর একজন লোক মারফত জানতে পারেন যে, তাহারা পায়ে হেটে বাড়ী ফেরার পথে ধড়মোকাম গ্রামের শাহ তুরকান মাজারের পশ্চিম পাশে চার রাস্তার মোড়ের কাছাকাছি পৌছাতেই চিৎকার শুনে সেদিকে তাকিয়ে দেখিতে পান যে, অজ্ঞাতনামা লোক তার বাবাকে ঘিরে ধরে এলোপাথারীভাবে ধারালো অস্ত্র দ্বারা কোপাচ্ছে। তখন তারা ডাক চিৎকার করে সেদিকে এগিয়ে গেলে এবং আশপাশের লোকজনদের আগাইয়া আসতে দেখিয়া অজ্ঞাতনামা লোক দৌড়াইয়া পালাইয়া যায়। অজ্ঞাতনামা লোক দৌড়াইয়া পালানোর সময় ঘটনাস্থলে তার একটি লোহার দা, পড়নের চাদর এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন ফেলিয়া চলিয়া যায়। তখন বাদীর প্রতিবেশী মোঃ আবুল কালাম আজাদসহ লোকজন সেখানে গিয়ে রাস্তার হালকা বৈদ্যুতিক আলোতে বাদীর বাবাকে চিনিতে পারিয়া খবর দেয়। তারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থল হইতে একটু দূরে থাকায় এবং রাস্তায় হালকা বৈদ্যুতিক আলো থাকায় অজ্ঞাতনামা লোককে চিনিতে পারে নাই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জিয়াউর রহমান মামলাটি তদন্তভার গ্রহন করিয়া অত্র মামলার ঘটনাস্থল হইতে জব্দকৃত আসামীর গায়ের চাদর, লোহার দা, প্লাষ্টিকের সেন্ডেল/জুতা, বাটন মোবাইল ও মোবাইলের নম্বরসহ সুরতহাল রিপোর্টসহ আনুসঙ্গীক কাগজ পত্র পর্ষালোচনার মাধ্যমে জানতে পারেন যে, উক্ত জব্দকৃত গায়ের চাদর, লোহার দা, প্লাষ্টিকের সেন্ডেল-জুতা, বাটন মোবাইল ও মোবাইলের নম্বরের মালিক উপরোক্ত গ্রেফতারকৃত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ আব্দুল লতিফ (২৯), পিতা মোঃ ওসমান গনি, মাতা মোছাঃ লাইলী বেগম, সাং ধর্মোকাম-উত্তরপাড়া, ওয়ার্ড নং-০৯, ১০ নং শাহবন্দেগী ইউপি, থানা শেরপুর। গত রবিবার ২৩ মাঊচ শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউপির ধর্মোকাম হাওয়া খানা সংলগ্ন ভূট্টার ক্ষেত থেকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। টাকা পাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২২ মার্চ আসামী নিজ বাড়ী থেকে লোহার দা কোমরে গুজে নিয়ে একটা খয়েরী রং এর চাদর গায়ে দিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়। রাত সাড়ে ১০ টায় আরিফের চায়ের দোকানে আকবর সাধুর সাথে তার দেখা হয়। দোকানে বসে তারা গল্প করে। চা খায়। রাত সাড়ে ১১ টায় আরিফের স্ত্রী দোকান বন্ধ করতে চাইলে তারা দোকান থেকে বের হয়ে গল্প করতে করতে মাজার সংলগ্ন চারমাথার দিকে পায়ে হেটে রওনা হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই শাহ তুরকান (রহঃ) এর মাজার সংলগ্ন চারমাথা মোড়ে পৌছাইলে আসামী তার কোমরে থাকা লোহার দা বের করে আকবর সাধুর মাথায় কোপ মারিলে আকবর সাধু চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন আসামী তার হাতে থাকা দা দিয়ে আকবর সাধুর মাথার আশেপাশে আরও কয়েকটি কোপ মারে। এমন সময় কেউ একজন বিষয়টি দেখে লোকজন ডাকাডাকি শুরু করিলে আসামীর তার হাতে থাকা লোহার দা সেখানে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।