মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপি জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও সেই শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দুই শপথই পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথবাক্যে কী আছে?
শপথবাক্যে বলা হয়, ‘আমি (নিজ নাম) সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি তাহা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং পরিষদ সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দেব না।’
গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এনিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
তাদের কেউ বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বিএনপি এই শপথ না পড়ে ঠিক করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা কোনো কারণে ৯০ দিনের মধ্যে না হলে তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে হতে হবে। কিন্তু এই নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক হয়নি। তাই সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ থেকে বিএনপির বিরত থাকা ঠিক হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে বিএনপি দিয়েছে এবং তারেক রহমান বলেছেন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। আমরা মনে করি সেজন্য গণভোট ব্যাপকভাবে জয়যুক্ত হয়েছে। সেই হিসেবে গণভোটের রায়ের আলোকে এই সংবিধান সংস্কার করাটা জরুরি এবং সেক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে তাদের ওথ (শপথ) নেওয়াটাও ছিল জরুরি। এখন তারা বলছেন যে সংবিধানে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের কথা বলা আছে কিন্তু আপনার এই সংস্কার পরিষদ হিসেবে নেওয়ার কথা বলা নেই।
তিনি বলেন, যেই সংবিধানের কথা তারা বলছেন সেই সংবিধানে বলা আছে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন। তাতে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তারপরে যদি কোনো কারণে ৯০ দিনে না হয় তাহলে আরও ৯০ দিন। সে ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেটা তো হয় নাই! তারপরও কি সংবিধান পারমিট করে যে আপনাদের যখন মন চায় তখন নির্বাচন করবেন?