শিরোনাম :
ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্নমত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ইরানে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্নের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস তারেক রহমানের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বগুড়ায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দশ হাজার জরিমানা

ইরানে শিগগির ট্রাম্পের হামলার ইঙ্গিত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট
ইরানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ আরও ক্ষিপ্র গতিতে চলছে। একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় চাপ দেওয়া হচ্ছে। অনদিকে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। এই অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলার সতর্কতাও এসেছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে এক বৈঠক শেষে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করেছেন, ট্রাম্প কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় যুদ্ধ শুরু করার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর ১ হাজার ফুট লম্বা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বুধবার বিকেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করে। তাতে স্পষ্ট হয়, রণতরীটি মরক্কোর পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ১৭৫ মাইল দূরে জিব্রাল্টার প্রণালী এবং ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পথে অবস্থান করছে। এটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রত্যাশার চেয়ে কম সময়ে পৌঁছাতে পারে।

ফোর্ড হল দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, যেটিকে ট্রাম্প ইরানের চারপাশের জলসীমায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে চাপ দিচ্ছেন। সিবিএস নিউজের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান প্রস্তুত করা হচ্ছে। এগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বহরের অংশ।

সম্ভাব্য হামলা কতদূর
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী শনিবারের মধ্যেই ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত। তবে যেকোনো পদক্ষেপের সময়সীমা সপ্তাহ গড়াতে পারে। তারা জানান, ইরানে হামলা চালানো হবে কিনা সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

তবে সিবিএস নিউজ নিশ্চিত করেছে, বুধবার মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে ৫০টিরও বেশি মার্কিন বিমান শনাক্ত করা গেছে। বিমানগুলো উপকূলের সামরিক বিমানক্ষেত্র থেকে পূর্বদিকে উড়ে যাচ্ছিল। ইতোমধ্যে সেগুলো যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে গেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫, এফ-২২ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিতে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে দেখা গেছে।

আকাশ পর্যবেক্ষণকারী বেসামরিক বিমান স্পটার্সের তোলা ছবিগুলো ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা এখন ইরানকেন্দ্রিক স্থানান্তরিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি, জ্বালানি ভরার বিমানের উড্ডয়ন এবং ফোর্ডের আগমনের আগে আজোরস ও ক্রিটের ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এর আগে জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ইরানে অপারেশন মিডনাইট হ্যাপার পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র।

রণতরী প্রস্তুত
রণতরী ফোর্ড শিগগির ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করবে এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীর সঙ্গে যোগ দেবে। লিংকন গত জানুয়ারি থেকেই আরব সাগরে মোতায়েন করা হয়েছে। অবশ্য ইরান থেকে স্পষ্ট দূরত্বের মধ্যে সেগুলো রাখা হয়েছে। লিঙ্কনকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ২০০ মাইল দূরে পাবলিক স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে।

উভয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীই মার্কিন নৌবহরের প্রধান জাহাজ। বহরে রয়েছে অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। গত সপ্তাহে ক্যারিবিয়ান থেকে যাত্রা শুরু করার পর বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ফোর্ড অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

এছাড়া ভূমধ্যসাগরে ইউএসএস রুজভেল্ট এবং ইউএসএস বুলকেলি, লোহিত সাগরে ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক এবং পারস্য উপসাগরে ইউএসএস মিটসারসহ মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ ইউনিট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যে গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিণতির সতর্কতা দিলো ইইউ
ইইউ বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। এই যুদ্ধ একটি ‘ভারী প্রতিক্রিয়া’ বয়ে আনবে। ইইউ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির খবরে আমরা উৎসাহিত। এটাকে আমরা সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ মোকাবেলায় ইরানকে গুরুত্ব দেখানোর সময় এসেছে।

ইরানে হামলা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট ডেইলি মেইলকে বলেন, ইরান আলোচনা সম্পর্কে স্টিভ এবং জ্যারেডের কাছ থেকে আপডেট পাওয়ার জন্য এটি একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল। এটি কোনো তাড়াহুড়ো সংকটকালীন বৈঠক ছিল না।

ডেইলি মেইল জানায়, ইরানে একটি সম্ভাব্য সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এবং আয়াতুল্লাহর শাসনকে উৎখাতের লক্ষ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। সূত্র দাবি করেছে, যৌথ সামরিক প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করবে ইসরায়েল। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানকে দেশের পারমাণবিক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে বড় ছাড় দেওয়ার দাবি করেছেন।

হোয়াই হাউসে বৈঠকের পর পোলিশ প্রধানমন্ত্রী এবং ন্যাটো মিত্র ডোনাল্ড টাস্ক বৃহস্পতিবার দেশটির নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন, সিবিএস, ডেইলি মেইল

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023