গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)প্রতিনিধি
গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক আদিবাসী সাঁওতাল নারীকে মারধর ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ,সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ, এ এল আর ডি এবং জনউদ্যোগে আদিবাসী সাঁওতাল নারীকে মারধরের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ ডিসেম্বর) গাইবান্ধা জেলা শহরে এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ডিবি রোডে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ‘আদিবাসী’ সাঁওতাল ও বাঙালীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহন করে। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভ‚মি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ডা. ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, পরিবেশ আন্দোলন সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী-বাঙালী সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মূরমূ , সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ, ভ‚ক্তভোগী শ্যামবালা, ব্রিটিশ সরেন, সাঁওতাল নেত্রী সুচিত্রা মূরমূ তৃষ্ণা, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের নেতা গোলাম রব্বানী মুসা, যুব নেতা সুজন প্রসাদ, অ্যাড. কুশলাশীষ চক্রবর্তী সাগর, অ্যাড. মোহাম্মদ আলী, অ্যাড. ফারুক কবির, কাজী আব্দুল খালেক, নারী নেত্রী নাজমা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর সাজেদা পারভিন রুনু, সুজন রবিদাস, ময়নূল ইসলাম প্রমুখ। আহত ফিলোমিনা হাসদার ছেলে ও গাইবান্ধা আইন কলেজের ছাত্র ব্রিটিশ সরেন অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে তাদের পৈত্রিক জমিতে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মাটি ভরাট শুরু করলে বাধা দিতে গেলে তার খালাতো ভাইকে মারধর করা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে তার মা ফিলোমিনা হাসদাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পরে রাতে তাদের বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়। সমবেশে বক্তারা বলেন, রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তারা সাঁওতাল নারী ফিলোমিনা হাসদাকে (৫৫) মারধর এবং তার বাড়িতে আগুন দেয়। মারধরের শিকার ওই নারী বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবী করা হয়।