বগুড়ার বহুল সমালোচিত সাংবাদিক মোহন আখন্দ ও নজমুল হুদা নাসিম বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার আমলে দু’জনই স্ত্রীসহ অবৈধ পন্থায় নানা সুযোগ সুবিধা নিয়ে এখন ভোল পাল্টে দাপট দেখিয়ে চলছে। যা বগুড়ার সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে।
তথ্য মতে, মোহন আখন্দ ও নজমুল হুদা নাসিম দু’জনই বগুড়ার প্রবীন সাংবাদিক হাসিবুর রহমান বিলুর কম্পিউটার অপারেটর ছিল। তিন বেলা ভাত যেনো জোটে তাই নাম মাত্র বেতনে চাকুরি দিয়েছিল হাসিবুর রহমান বিলু। পরবর্তীতে দৈনিক সংবাদ, যুগান্তর, সমকাল থেকে চাকুরিচ্যুত হয়ে মোহন আখন্দ এখন কাজ করছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ নামে পত্রিকায়। আর নজমুল হুদা নাসিমও ইতিপুর্বে অন্য পত্রিকা থেকে চাকুরিচ্যুত হয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় রয়েছে।
সূত্র মতে, মোহন আখন্দ বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (বি ইউ জে) সদস্য হওয়ায় অস্বচ্ছল দরিদ্র হিসেবে লাখ লাখ টাকা অনুদান নিয়েছে। এমনকি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পবিত্র হজ¦ পর্যন্ত করেছে। স্ত্রী নাসিমা সুলতানা ছুটু স্থানীয় দৈনিক করতোয়ার রিপোর্টার হিসেবে পরিচিত। দৈনিক করতোয়ার সম্পাদকের আস্থাভাজন হওয়ায় নাসিমা সুলতানা ছুটু সিনিয়র সাংবাদিকদেরও তোয়াক্কা করে না। এখনো করতোয়ার সম্পাদকের আস্থাভাজন নাসিমা সুলতানা ছুটু বীরদর্পে করতোয়া পত্রিকা হাউজ নিয়ন্ত্রন করছে বলে সাংবাদিকদের একটি সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি মোহন আখন্দ ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় স্বামী-স্ত্রী মিলে টার্গেট করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে হয়রানী করতো। পরবর্তীতে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে হয়রানী বন্ধ করতো। এমনকি যাদের হাত ধরে সাংবাদিকতা পেশায় এসেছে মোহন আখন্দ দম্পত্তি তাদেরকেও মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে দিতে দ্বিধা করেনি বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এ বিষয়ে দৈনিক আমার সোনার দেশ, দৈনিক মুক্তজমিন ও সাপ্তাহিক আজকের তাজা খবর অনুসন্ধান শুরু করেছে। কে এই মোহন আখন্দ, তার পারিবারিক আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহনের তথ্য প্রমান সংগ্রহ চলছে। গত কয়েক দিন আগে একটি পত্রকায় সংবাদের প্রতিবাদে মোহন আখন্দের কিছুটা তথ্য বেরিয়েছে,আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে। অনুসন্ধান শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্যসহ নিরপেক্ষ সংবাদ উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে নজমুল হুদা নাসিমও বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (বি ইউ জে) সদস্য হিসেবে অস্বচ্ছল দরিদ্র হওয়ায় লাখ লাখ টাকা অনুদান নিয়েছে। আর স্ত্রী ডালিয়া খাতুন রিক্তা ফ্যাসিস্ট সরকারের বগুড়া জেলা আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রভাব ও স্বামীর সাংবাদিকতার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিনা ভোটে সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করে। অনৈতিকভাবে এই দম্পত্তি বাড়ি, জায়গা, জমি ক্রয়, নামে বেনামেও সম্পদ গড়ে তোলে। বর্তমানে নজমুল হুদা নাসিমের স্ত্রী ডালিয়া খাতুন রিক্তা হত্যা মামলায় পলাতক রয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ডালিয়া খাতুন রিক্তা বেকার যুব মহিলা লীগের কর্মিদের দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করাতো। ডালিয়া খাতুন রিক্তা ইয়াবা সরবরাহ করতে গিয়ে পুলিশ দেখে বেকার যুব মহিলা লীগের কর্মিকে ফাঁসিয়ে দেয়। এরপরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে স্বামীর কারণে গণমাধ্যমে বিষয়টি আসেনি। কথিত রয়েছে, ডালিয়া খাতুন রিক্তার স্বামী সংবাদকর্মি হওয়ায় নিজেই ইয়াবার চালান এনে স্ত্রীর হাতে তুলে দিতো। এছাড়া রয়েছে অজানা আরো অনেক ঘটনা। সেই সব ঘটনা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে শিগগিরই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে। আর বগুড়ার প্রতিথযশা সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, এসব ধান্দাবাজ, টাকার বিনিময়ে কর্মরত পত্রিকায় সমাজের নানা শ্রেনীর মানুষের সম্মানহানি করার এজেন্ডা বাস্তবায়নে বহুল সমালোচিত সাংবাদিক মোহন আখন্দ ও নজমুল হুদা নাসিম বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের ছায়ার সন্ধানে আছে। সংবাদকর্মি মোহন আখন্দ ও নজমুল হুদা নাসিম যেনো বগুড়া শহরে কাউকে ব্ল্যাকমেইল করতে না পারে সেদিকে রাজনৈতিক মহল ও সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া’র (জেইউবি) নেতাদের সুদৃষ্টি কামনার পাশাপাশি এদেরকে বয়কট করার সময় এসেছে বলে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক মতপ্রকাশ করেন।