ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির দুই বই প্রত্যাহার

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) মো. মশিউজ্জামান জানিয়েছেন, ভুলত্রুটি নয়, বিতর্কহীন থাকা এবং সহনশীল পরিস্থিতির জন্যই চলতি শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুটি বইয়ের পাঠদান প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে চলতি শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয় ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বই দুটির পাঠদান প্রত্যাহারের ব্যাখ্যা দেন মো. মশিউজ্জামান।

‘বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমবিষয়ক অপপ্রচার বন্ধ হোক’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি নামের একটি সংগঠন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনেকটা আকস্মিকভাবেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই দুটি বই প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছিল এনসিটিবি। তবে, কী কারণে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল তার ব্যাখ্যা সেদিন দেয়া হয়নি। এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের বছরে মূলত ‘রাজনৈতিক কারণেই’ সরকার বই দুটি প্রত্যাহার করে নেয়।

এনসিটিবির সদস্য মো. মশিউজ্জামান বলেন, প্রত্যাহার হওয়া বই দুটিতে ভুলত্রুটি আছে বলে তারা মনে করেন না। তবে বানান ভুল থাকতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা সবার কাছে বিতর্কহীন থাকার চেষ্টা করেন।

রাষ্ট্রও চায় সবার কাছে এটি সহনশীল পর্যায় থাকুক। সে রকম অবস্থায় তারা বিবেচনা করেছেন যে এই দুটি পাঠ্যবই যদি প্রত্যাহারও হয়, তাতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে না। তবে এটি থাকলে হয়তো আরেকটু সহায়তা করত।

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুটি বই প্রত্যাহার এবং অপপ্রচার প্রসঙ্গে মশিউজ্জামান আরও বলেন, গত ৩ জানুয়ারির পর তারা একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান। তারা লক্ষ্য করেছেন, নির্বাচনের আগের বছরে এগুলো (অপপ্রচার) বেশি করা হয়। ২০১৭ সালেও অপপ্রচার হয়েছে। এবারের অপপ্রচার মাত্রাহীন এবং মিথ্যা প্রচারণায় ভরপুর ছিল। তাই তাদের পক্ষ (সরকার ও এনসিটিবি) থেকে এগুলোর ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা ছিল।

এ সময় আক্ষেপ করে আজকের আলোচনার আয়োজকদের উদ্দেশে মশিউজ্জামান বলেন, ‘তখন একটু অসহায় বোধ করেছি, তখন আপনারা কেউ আমাদের পাশে ছিলেন না।’

এ সময় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ‘পাশে না থাকার’ কথাটুকুতে দ্বিমত করেন। তিনি সরকারের অবস্থান ‘সাপ হয়ে দংশে, ওঝা হয়ে ঝাড়ে’–এর মতো বলেও মন্তব্য করেন শাহরিয়ার কবির।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, অসাম্প্রদায়িক দেশটিকে পুরোপুরি উল্টো দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি মফিদুল হক বলেন, সরকার আপসকামিতার পরিচয় দিচ্ছে বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023