নওগাঁর ধামইরহাটে সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম-নীতি মানছে না ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস)। উল্টো সরকারি এসব নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্রাহকদের ঋণের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ফাঁকা চেক। তবুও লোন না দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, পৌর সদরের মঙ্গলকোঠা গ্রামের শ্যামলী রানী পূর্বের ৫০ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধ করলে ধামইরহাট উপজেলার টিএন্ডটি মোড়ে অবস্থিত টিএমএসএসের ইসলামী শাখায় ৭০ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের আশ্বাস দেন এনজিও কর্তৃপক্ষ। ঋণ পরিশোধ করলেও তাকে ঋণ না দিয়ে করা হয় হয়রানি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন ওই এনজিও কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অনেক সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ব্যাংকের ফাঁকা চেক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শ্যামলী রানী বলেন, ‘আমার থেকে জনতা ব্যাংকের ফাঁকা দুটি চেকের পাতা নিয়ে আমাকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অনেক জায়গায় স্বাক্ষরও নিয়েছে। আর ঋণ দিচ্ছে না, আমার চেকও ফেরত দিচ্ছে না। যে কারণে আমি অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। সামনে আমাদের পূজা উৎসবও করতে পারব না।’
কাজলী মালী নামের এক গ্রাহক এক বছর মেয়াদি ঋণ নিয়ে সাপ্তাহিকভাবে কিস্তি পরিশোধ করছেন। এখন আটটি কিস্তি পাবে টিএমএসএস। এ অবস্থায় তাকে প্রলোভন দেখিয়ে একই দিনে ৮ কিস্তি জমা নিয়ে তাকেও ঋণ না দেওয়া হয়নি। ঋণ না পেয়ে ভুক্তভোগী কাজলী মালি এখন দিশেহারা।
অপর ভুক্তভোগী আড়ানগরের গোকুল গ্রামের রেশমা খাতুন বলেন, আমার থেকে ব্যাংকের ফাঁকা চেকে আমার স্বাক্ষর নিয়ে এখন ঋণ দিতে টালবাহানা করছে।’
এ বিষয়ে টিএমএসএসের ইসলামী শাখার ব্যবস্থাপক ও মাঠ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।
টিএমএসএসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণ না দিয়ে চেক গ্রহণ করে আটকে রাখলে তা ঠিক হয়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান এই বিষয়ে ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগের পরামর্শ প্রদান করে বলেন, ‘কোনোভাবেই গ্রাহকের নিকট থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে চেক গ্রহণ করা যাবে না। এটা বিধি সম্মত নয়, এরূপ অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।