হিজাব মামলা কর্নাটক হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

ভারতের কর্নাটক রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করা নিয়ে মামলা এবার রাজ্যটির হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণ এস দীক্ষিতের বেঞ্চে মামলাটি ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীক্ষিত জানিয়ে দেন, এ রকম একটি বিষয় বৃহত্তর বেঞ্চে যাওয়া উচিত। খবর ডয়চে ভেলের।

তার কথা মেনে প্রধান বিচারপতি রিতুরাজ অশ্বিন তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করেছেন। সেই বেঞ্চে আছেন প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি দীক্ষিত এবং বিচারপতি মহিউদ্দিন। এর মধ্যে বিচারপতি মহিউদ্দিন হলেন নারী বিচারপতি। গতবছর মার্চে তিনি কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি হন।

তিন বিচারপতির বেঞ্চে বৃহস্পতিবার পাঁচটি আবেদনের শুনানি হবে। উদুপি কলেজের ১৮ ছাত্রী হিজাব পরে ক্লাসে আসা নিষিদ্ধ ঘোষণার বিরুদ্ধে এ আবেদন জানিয়েছেন। নিয়মানুসারে তিন বিচারপতির বেঞ্চ যে রায় দেবেন, তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো যাবে।

বুধবার বিচারপতি দীক্ষিত জানিয়ে দেন, ‘আদালতে কিছুদিন ধরে বিষয়টির শুনানি চলছে। কিন্তু এ আবেদনে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই একজন বিচারপতির বেঞ্চ নয়, বরং মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চে যাওয়া উচিত। প্রধান বিচারপতি চাইলে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করতে পারেন।’

বিচারপতি বলেছেন, ‘সব ক’টি আবেদনের মূলে রয়েছে একটিই প্রশ্ন, হিজাব পরা ধর্মীয় কার্যকলাপের আবশ্যিক অঙ্গ কিনা? আবেদনকারীরা বোম্বে, মাদ্রাজ ও কেরালা হাইকোর্টের রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখও করেছেন। পুরো বিষয়টিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর সাংবিধানিক রক্ষাকবচের পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে হবে।’

হিজাব বিতর্কের মধ্যে কর্নাটকের দেবাঙ্গেরে, শিবামোগা ও বাগলকোট জেলায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

বাগলকোটে ছাত্রদের বিক্ষোভের জেরে একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। সেখানে বনধ পালিত হয়েছে। শিবমোগাতে ১৪৪ ধারা অগ্রাহ্য করে একটি কলেজের ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছে।

বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিক্ষোভ, জমায়েত করা যাবে না। ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ নির্দেশ বহাল থাকবে। অন্য কিছু শহরেও বিক্ষোভে লাগাম পরানোর জন্য একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, একজন নারী কী পোশাক পরবেন, মাথা ঢাকবেন কিনা, সেটা তার নিজস্ব বিষয়। চাইলে তিনি ঘোমটা দেবেন, চাইলে হিজাব পরবেন, কেউ নারীর এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।

কর্ণাটকের কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী শিবকুমার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘হঠাৎ করে এত গেরুয়া সাল কী করে কর্ণাটকে ছাত্রদের হাতে চলে এল?’ তার অভিযোগ, ‘সুরাত থেকে ৫০ লাখ গেরুয়া শাল কর্ণাটকে পাঠানো হয়েছে।’

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মন্ত্রীরা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ঠিক হয়েছে, সরকার এখন হাইকোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করবে। তারপর তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নাগেশ বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরা নিয়ে সরকারের নির্দেশ আগের মতোই বহাল থাকবে।

হরিয়ানার মন্ত্রী অনিল ভিজ, তারকা সংসদ সদস্য হেমা মালিনীসহ বিজেপি নেতারা একসুরে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্ম পরতেই হবে। এর সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়কে ঢোকানো উচিত হবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023