বিদেশি সিরিয়াল দেখে বন্ধুকে হত্যা!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অজ্ঞাত গলিত মৃতদেহের (কঙ্কাল) পরিচয় উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূলহোতা মো. সাব্বিরসহ (২২) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাব-১। সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকায় একটি পাঁচ তলা ভবনের তৃতীয় তলার রুমে ফ্ল্যাটের গোসলখানার পানির ড্রাম থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির লাশ পচে কঙ্কাল হয়ে যাওয়ায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ তাৎক্ষণিকভাবে নিহত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই নাটোর জেলার গুরুদাসপুরে অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি মো. আনোয়ার হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানতে পারে যে, একই গ্রামে আনোয়ারের প্রতিবেশী জয়নালকে গত ১৪ আগস্ট থেকে তার বাবা-মা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। জয়নাল তার গ্রামের প্রতিবেশী আব্দুস সুকুরের ছেলে মো. সাব্বির হোসেনের সঙ্গে ঢাকার আশুলিয়ায় একই বাসায় সাবলেটে বসবাস করত। ৩১ আগস্ট ভোরে র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন মো. সাব্বির হোসেন (২২), অপর সন্দেহভাজন মো. আনোয়ার হোসেন (২০) ও মো. সুরুজ আলীকে (১৮) গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং কঙ্কালপ্রায় গলিত মৃতদেহটি জয়নালের বলে নিশ্চিত করে।

যে কারণে হত্যা

ঘটনার বিবরণে র‍্যাব জানায়, আসামি সাব্বির হোসেন (২২) এবং সাথী (১৭) স্বামী-স্ত্রী। সাব্বির আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করার কারণে তারকে নিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইদ্রিস কাজীর পঞ্চম তলা বাসার তৃতীয় তলায় দুই রুমের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।

নিহত জয়নাল (২০) ও সাব্বির একই গ্রামের বন্ধু হওয়ায় সাব্বিরের ভাড়া বাসায় মে থেকে সাবলেট হিসেবে বসবাস করতে থাকে। একই বাসায় বসবাসের ফলে আসামি সাব্বিরের স্ত্রীর সঙ্গে জয়নালের সু-সম্পর্ক তৈরি হয়, যা সাব্বির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে সন্দেহ করে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। মনোমালিন্যের জেরে গত জুনে সাব্বির তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি লালমনিরহাটে পাঠিয়ে দেয়।

যেভাবে হত্যা

স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর সাব্বির জয়নালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাব্বির জয়নালকে চাকরি দেওযার কথা বলে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে পুনরায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে।

অতঃপর জয়নালকে হত্যার জন্য সাব্বির পরিকল্পিতভাবে তার গ্রামের বন্ধু আনোয়ার এবং সুরুজকে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট রাতে সাব্বির জয়নালকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় তার ভাড়া বাসায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ার এবং সুরুজের সহায়তায় গলাটিপে হত্যা করে। হত্যা করার পর লাশ গুম করার জন্য একটি পানির ড্রামের মধ্যে জয়নালের মৃতদেহ রেখে দরজা বন্ধ করে বাসায় তালা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

র‌্যাবের ভাষ্য

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব আরও জানায়, তারা টিভি এবং মোবাইল ফোনে অপরাধ সংক্রান্ত বিদেশি সিরিয়াল দেখে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023