যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলা সদর, কাজিপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও চৌহালীর নিম্নাঞ্চলের বসতভিটা তলিয়ে গেছে।
পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। বন্যা কবলিতদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে আউশ ধান ও পাট এবং সবজি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ও ঘরের বেড়া নষ্ট হয়ে পড়ছে।
সারাক্ষণ পানিতে থাকায় হাত-পায়ে ঘাসহ নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। কিন্তু কাজকর্ম না থাকায় ওষুধ ও খাদ্য ক্রয় করতে পারছে না। এমন অবস্থায় বন্যা কবলিতরা সরকারি-বেসরকারি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে পানি বাড়ায় যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলে ভাঙনও শুরু হয়েছে।
পানিবন্দী শিল্পী খাতুন জানান, বন্যার পানিতে ঘরের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো মতে দুটি টিন ও ছালা দিয়ে বেড়া দিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। পরিবারের একমাত্র উপার্জন ব্যক্তি স্বামী। কিন্তু তার অপারেশন হওয়ায় ১০ দিন যাবৎ কোনো কাজকর্ম নেই। ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছি। এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাইনি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, ইতিমধ্যে ৫টি উপজেলায় ৮০ মেট্রিক টন চাল ও প্রতি ইউনিয়নে ৭০ হাজার করে টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।