ডেস্ক রিপোর্ট
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবার একদিন পর সোমবার শহরটির রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। শহরের অসংখ্য কার্পেট আর গহনার দোকানগুলোর পাশাপাশি ছোট ছোট ক্যাফেও বন্ধ দেখা যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানের মালামাল রক্ষা করার জন্য তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেকের মধ্যে এই চিন্তাও রয়েছে যে, তাদের পরবর্তী গ্রাহক কোথা থেকে আসবে।
একজন দোকান মালিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি পুরোপুরি শোকের মধ্যে আছি। শহরে তালেবানের প্রবেশ আমাকে ভীত করে তুলেছে। কিন্তু ঘানি (প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি) আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ করে তুলেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি অফিসগুলো খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কূটনীতিক আর তাদের পরিবারের সদস্যরা চলে যাওয়ায় কাবুলের দূতাবাস এলাকা পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে রয়েছে।
তালেবান অবশ্য ঘোষণা দিয়েছে, জনসাধারণ তাদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড খুব তাড়াতাড়ি শুরু করতে পারবেন। এক তালেবান নেতা বলেন, সাধারণ জীবনযাত্রা আগের তুলনায় আরো ভালোভাবে চলবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, কাবুল শহরের নিয়ন্ত্রণে তালেবানরা থাকলেও বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সেনাদের হাতেই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও সহযোগী দেশগুলোর কূটনৈতিক এবং কর্মীদের সরিয়ে নিতে কাবুল বিমানবন্দরের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখেছে মার্কিন সেনারা। তারা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখতে আরো সেনা মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার দেশটির সহকারি নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন ফাইনার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুলত আফগানিস্তানে কাজ করা মার্কিন কর্মকর্তা কর্মচারি এবং তাদের সমর্থক আফগানদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এমন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একে একে বিমানে করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
কাবুলের নিয়ন্ত্রণ তালেবান নেয়ার পর যারা রাজধানী থেকে থেকে পালাতে চাইছেন, তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা।
বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বেশিরভাগ স্থগিত হয়ে রয়েছে। ফলে হাজার হাজার বেসামরিক আফগান ও বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।