ডেস্ক রিপোর্ট
করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পড়াশুনা বিমুখ হয়ে পড়ছে এ উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে তারা। আর শিক্ষকরা মেতেছেন রমরমা কোচিং প্রাইভেট বাণিজ্যে। করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা তেমন খোঁজখবর নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে ছোটখাটো অপরাধে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এ কাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
সরেজমিন জানা যায়, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মোবাইলে গেমে জড়িয়ে পড়ছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর, তরুণ ও যুবকরা পাবজি, তিনপাত্তি, ফ্রি ফায়ার গেমসে ঝুঁকে পড়ছে।
উপজেলার প্রায় ৭টি ইউনিয়নে উঠতি বয়সের শিক্ষার্থী ও যুব সমাজ পাবজি, তিনপাত্তি, ফ্রি ফায়ার নামক গেইমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা বই আর খেলার মাঠে, সেই সময়ে তারা তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে ঘরকুনো হয়ে গেমের নেশায় বুঁদ হয়ে রয়েছে। ১০-১৬ বছরে এসব শিশু, কিশোর ও তরুণরা প্রতিনিয়ত স্মার্টফোনে গেমে আসক্ত হচ্ছে।
এ উপজেলায় ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রায় ১০টি কেজি স্কুল, ২৫টি মাধ্যমিক, ১৯টি মাদ্রাসা, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ৩৯টি ও ৫টি কলেজসহ নামে-বেনামে সরকারি তালিকাবিহীন আরও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায় শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা বিমুখ হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবজি গেমে আসক্ত নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, গেম আগে ভালো লাগত না। বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন আসক্ত হয়েছি। এখন না খেললে ভালো লাগে না। গেম খেলে সময় কাটাচ্ছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, করোনায় মোবাইল গেমে আসক্ত হয়েছে তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান। অনেক চেষ্টা করেও এখন এই নেশা থেকে বিরত রাখতে পারছেন না।
বগুড়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাসেল জানান, তাদের কোনো অনলাইন ক্লাস হয় না। তবে তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট চলে। ওই প্রতিষ্ঠানের দুজন শিক্ষক নিয়মিত প্রাইভেট পড়িয়ে যাচ্ছেন।
দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুন অর-রসিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে মোবাইল গেমে আসক্ত হতে না পারে সেজন্য অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। মোবাইলে শিক্ষণীয় বিষয় দেখার তাগিদ দিতে হবে। বাসায় পড়াশুনার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও কঠোর হতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল আমিন জানান, মোবাইল গেমের আসক্তি রোধে অভিভাবকের সচেতন হতে হবে। কোনো শিক্ষক যদি প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য করেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।