মুক্তজমিন ডেস্ক
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিয়ের ছয় মাসের মাথায় কিশোরী বধূ মেঘলা খাতুনকে (১৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সাঁড়াগোপালপুর ইরকোন গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর মেঘলার স্বামী আশিক ও শ্বশুর আশরাফুল আলম পালিয়ে গেছেন। তবে মেঘলার শাশুড়ি মুর্শিদা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
মেঘলা খাতুন পাকশীর সিবেল হাট এলাকার হাফিজুর রহমানের মেয়ে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি আশিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়।
বুধবার আশিকের বাবা আশরাফুল আলম তার স্ত্রী মুর্শিদা খাতুনের নামে তিনতলা বাড়িসহ ৪.৭৫ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। ছেলেকে জমি না দেওয়ায় আশিক ও তার স্ত্রী মেঘলার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে আশিককে ডাকতে যান তার মা মুর্শিদা খাতুন। এ সময় আশিক দরজা খুললে মেঘলাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন তিনি। এ দৃশ্য দেখে চিৎকার দিলে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা এসে ওড়না কেটে মেঘলার মরদেহ নিচে নামান।
মেঘলার শাশুড়ি মুর্শিদা খাতুন বলেন, মেঘলাকে নিজের মেয়ের মতো আদর করতাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে আমরাও হতবাক হয়েছি।
এ বিষয়ে আশিক বলেন, ঘুমিয়ে পড়ার পর মেঘলা নিজেই ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। আমি টের পাইনি। সকালে মা দরজা খোলার জন্য ডাক দিলে ঘুম থেকে উঠে দেখি সে আত্মহত্যা করেছে।
মেঘলার মা রিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই। এ ঘটনায় রিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অভিযোগ করেছেন।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।