পাটুরিয়া ঘাটে প্রায় ৫ কিলোমিটার যানবাহনের সারি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে ফেরি চলাচলে সময় বেশি লাগা এবং যানবাহন বৃদ্ধির কারণে রোববার ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফেরি পারাপার হওয়ার জন্য পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের নবগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার যানবাহনের সারি। ফলে ফেরি পারাপারের জন্য যাত্রীদের ঘাট এলাকায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

যাত্রীরা বলছেন, ঈদের ৩-৪ দিন আগেই এতো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আর ঈদের ২-১ আগে কত দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

 

আসন্ন ঈদের এখনও তিনদিন বাকি। কিন্ত গত শুক্রবার থেকে আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ঘরে ফেরা শুরু হয়েছে। ঈদে যাত্রীরা বাড়ি যাওয়া শুরু করায় ঘাটে বিভিন্ন যানবাহনের চাপও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। যদিও এখনও সরকারি ও বেসরকারি ছুটি শুরু হয়নি।

 

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ঈদের আগের তিনদিন ও পরের তিনদিন ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ট্রাক চালকরা ফেরি পারাপার হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন।

 

 

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, এ নৌরুটে চলাচলরত বেশিরভাগ ফেরি দীর্ঘ দিনের পুরনো। এ কারণে প্রতিদিনই প্রায় দুই একটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতিতে পড়ে থাকছে। বর্তমানে এ নৌরুটে ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে ঈদ উপলক্ষে শাহ জালাল নামের আরও একটি ফেরি দুই-একদিনের মধ্যে আনা হবে এ নৌরুটে।

 

এদিকে নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী হানিফ বাসের চালক আকাশ চৌধুরী জানান, রোববার সকাল ৬টায় গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে সকাল সোয়া ৮টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে যানজটে পড়েছেন। এ রকম অনেক বাস চালকরা ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

ওই বাসের যাত্রী লিমা আক্তার জানান, তার বাড়ি খুলনা সদর থেকে একটু ভেতরে। তার স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতি ঈদের ২-১ দিন আগে তারা সবাই বাড়ি যান। কিন্ত তার স্বামীর ছুটি না হলেও তিনি তাদের সন্তানদের নিয়ে এবার আগেভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন ঘাট এলাকায় যানজটের ভয়ে।

 

এ রকম অনেক যাত্রীরাই তাদের সন্তানদের নিয়ে বড়ি ছুটে যাচ্ছেন ঈদের সময় যানজটে পড়ার আশঙ্কায়।

 

আরিচা অফিরের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, এ নৌরুটে ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার ও আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কারণে বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট এরাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

 

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, এ নৌরুটে চলাচলরত ফেরিগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। এ কারণে ফেরিগুলো বার বার বিকল হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই দুই একটি ফেরি মেরামতের জন্য ভাসমান কারখানায় পড়ে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023