স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট
জয়পুরহাটের পুরানাপৈল রেল ক্রসিং এ বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন আপন দুই ভাই সরোয়ার হোসেন বাবু (৪০) ও আরিফুর রহমান রাব্বি (২০)।
একসঙ্গে দুই ছেলেকে হারিয়ে এখন শোকে পাগলপ্রায় বাবা-মা। অনাকাঙ্খিত এমন এক দুর্ঘটনায় দুই ছেলেকে হারিয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন তারা। এক নিমিষেই যেন তাদের সব স্বপ্ন ধুলোর সাথে মিশে গেল।
নিহত দুই ভাই সরোয়ার ও রাব্বী পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আলতাফ হোসেনের ছেলে।
এদিকে তাদের শান্তনা দিতে এসে গ্রামবাসীরাও যেন নির্বাক। কী দিয়ে শান্তনা দেবে তাদের। আলতাফ ও মা আম্বিয়া বেগমের এই দুই ছেলে ছাড়া আর যে কোন সন্তানই নেই তাদের।
আলতাফ হোসেন জানান, বড় ছেলে সরোয়ার হোসেন গ্রাম্য পশু ডাক্তার ছিলেন। আর ছোট ছেলে রাব্বি এবারই এইচএসসি পাশ করেছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য রাব্বিকে সাথে নিয়ে যায় বড় ভাই সরোয়ার। ভর্তি পরীক্ষা শেষে শনিবার ভোররাতে ট্রেনযোগে জয়পুরহাট রেলস্টেশনে পৌঁছেন তারা।
এরপর জয়পুরহাট শহর থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য হিলিগামী বাধন এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী বাসে ওঠে দুই ভাই। সকাল ৬টার দিকে বাসটি পুরানাপৈল রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় পার্তবতীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই অন্য ১২ জনের মৃত্যুর মিছিলে তারাও যুক্ত হন।
তাদের এমন অকাল মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বেদনাদায়ক এমন সংবাদ শুনে আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ এলাকাবাসীরা ছুটে আসেন তাদের শেষ বারের মতো এক নজর দেখার জন্য। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুই ভাইকে শায়িত করা হয়।