টার্নিং পয়েন্ট মে, আমরা কি বেশি ঝুঁকি নিচ্ছি?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

উহান থেকে রোম। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, মৃত্যুর মিছিল সর্বত্র। সবকিছু ছাপিয়ে মানুষের অসহায়ত্ব। অসহায় চিকিৎসা বিজ্ঞানও। বাংলাদেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে এ প্রশ্ন সর্বত্র। অঘোষিত লকডাউন এরইমধ্যে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

মোটাদাগে বেশ কয়েকটি দৃশ্যপট এখানে পরিষ্কার। সব ঠিক আছে পার্টি আগের মতোই তৎপর। অনলাইন বা টিভি পর্দায় তাই বলা হচ্ছে।

রাস্তায় মানুষের ভিড়। পোশাক শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। জীবন আর জীবিকার লড়াইয়ে তারা অসহায়। করোনার জন্য হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরেই আবার পোশাক কারখানার বড় একটি অংশ। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন। চারশ’র বেশি চিকিৎসক এরই মধ্যে আক্রান্ত। অন্যদিকে, হাসপাতালগুলোতে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না এ সত্য অনেকটাই পরিষ্কার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বক্তব্য বেশ শেয়ার হচ্ছে। যার মূল কথা অনেকটা এরকম- আপনি চাইলেই করোনা টেস্ট করতে পারবেন না। আর করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট না থাকলে কোন হাসপাতাল আপনাকে ভর্তি নিবে না। অ্যাম্বুলেন্সে, অ্যাম্বুলেন্সেই আপনার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।

নিষ্ঠুর এপ্রিল প্রায় শেষ। এ মাসে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। বুধবারই রেকর্ড সংখ্যক আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৬৪১ জন। এসময়ে মারা গেছেন আট জন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেমন যাবে মে মাস? আরো বেশি নিষ্ঠুর? সম্প্রতি এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় বিশেষজ্ঞদের একটি প্রক্ষেপণ তুলে ধরা হয়। প্রক্ষেপণের প্রথমটি রক্ষণশীল। এ প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আগামী ৩১শে মে পর্যন্ত ৪৮ থেকে ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। আর মারা যেতে পারেন ৮০০ থেকে এক হাজার মানুষ। আরেকটি প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এই আক্রান্তের সংখ্যা হতে পারে প্রায় এক লাখ।

এই যখন অবস্থা তখন পরিস্থিতি আমরা কি দেখছি। এটা সত্য বহু মানুষ ক্ষুধায় কাতর। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ সত্ত্বেও। এসব মানুষ বাধ্য হয়েই রাস্তায় আসছে। পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার কারণে অনেককে বেরুতে হচ্ছে। কিন্তু এরবাইরেও বহু মানুষ বের হচ্ছেন। বাজারে ভিড় কিছুতেই কমছে না। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই বললেই চলে। উল্টো রেস্টুরেন্টগুলোকে অনুমতি দেয়া হয়েছে ইফতারি বিক্রির। যেন এক বছর রেস্টুরেন্টের ইফতার না খেলে জীবন চলবে না। লকডাউনের কথা বলা হলেও একজেলার সঙ্গে অন্য জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় লোকজন যাওয়ায় কারণেই করোনা আরো ছড়াচ্ছে তা অনেকটাই পরিষ্কার। মানুষের মধ্যে একধরনের গাছাড়া দেয়া ভাব।

মুখে যাই বলি না কেন আমাদের অর্থনীতির জনভিত্তি কতটা তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। পেটে খাবার না থাকলে মানুষ কিছুই মানবে না এটা সত্য। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও মানুষের জীবনই সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত। সাবধান হওয়া দরকার মানুষের নিজেরই। কারণ হাসপাতালে গেলে কী ধরনের চিকিৎসা পাবেন তা যদি আপনি এখন না বুঝেন কোনোদিনও বুঝবেন না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বারবার টেস্ট এবং টেস্টের কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতি সবারই জানা। বহুমানুষ এখনো চেষ্টা করে টেস্ট করাতে পারছেন না। অনেককে স্যাম্পল দেয়ার পর কয়েকদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ফল পাওয়ার জন্য। এই পরিস্থিতিতেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো উচিত আরো কয়েকগুণ। রোগীদের চিহ্নিত আর আলাদা করা প্রয়োজন। সূচক নিম্নমুখী না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নেয়া প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত আরো সতর্কভাবে। আমরা যেন বেশি ঝুঁকি না নেই। জীবনতো একটাই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023