বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ সোনারগাঁ থেকে তুলে অন্যত্র নেওয়ার দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবে গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে তার লাশ দাফন হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানকার মানুষের প্রতিবাদের মুখে ফাঁসি কার্যকরের পর শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। পরদিন লাশ দাফনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। দিনভর কয়েক দফায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের এখন একটাই দাবি, লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে; সোনারগাঁকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

 

উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের লাশ এই জেলায় রাখতে দেওয়া হবে না। মাজেদের লাশ অপসারণ না করা হলে কবর থেকে তুলে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।

 

এছাড়া এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হায়দার, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান। কেউ ঝাড়ু, কেউ জুতা নিয়ে মাজেদের কবরে আঘাত করেন। অনেকে আবার কবর খোঁড়ার চেষ্টা করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা কবর ছেড়ে চলে যান। তবে লাশ তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান তারা।

 

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদের লাশ রাতের আঁধারে সোনারগাঁয়ে দাফন করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, ‘যার বাড়ি ভোলায় তাকে কেন সোনারগাঁয়ে রাতের আধারে দাফন করা হলো? এ জন্য সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ ও সব অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোলাবাসী তার দায় বহন করতে চায় না, তাহলে আমরা সোনারগাঁবাসী কেন এর দায় নেবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সবিনয় প্রার্থনা, এই খুনির লাশ সোনারগাঁ থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হোক।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী হায়দার, সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম মাসুদ দুলালসহ জেলা ও উপজেলার নেতারা মাজেদের লাশ তুলে অন্যত্র নেওয়ার পক্ষাবলম্বন করেন।

 

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মাজেদের দাফন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয়ভাবে করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়নি। সকালে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে শোনার পর আমি খোঁজ নিতে শুরু করি।’ তিনি বলেন, ‌’রাত তিনটায় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে এনে দাফন করে চলে যায়। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি—আমরা সরকারকে জানাবো। পরে আমাদের যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবে কাজ করবো।’

 

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মাজেদ ২৩ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় তাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023