রংপুর প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইটভাটায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শিশুশ্রম আইনকে তোয়াক্কা না করে শিশুদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন ভাটার মালিকরা। ভাটার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মজুরি বৈষম্যেরও শিকার হচ্ছে শিশুরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলেও এ ব্যাপারে তেমন কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল এলাকার ফাইভ স্টার ব্রিকস ফিল্ডে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল পড়ুয়া কয়েকজন শিশু ভাটাটিতে কাজ করছে। দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ’টি ইট শুকানোর জন্য প্রতিটি শিশুকে দেওয়া হয় মাত্র ২০ টাকা। অথচ এই কাজ করানোর জন্য একজন শ্রমিক নিয়োগ দিলে তাকে দিতে হতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মজুরি সাশ্রয় করতে আইন অমান্য করে এভাবে শিশুদের কাজে লাগাচ্ছেন ভাটার মালিকরা।
একই দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলির কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা এমএমবি ইটভাটায়। এখানে নিয়মিত কাজ করে সোনাখুলি মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র মো. শাহিন (৭)। সে ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। একই স্কুলের ছাত্র ও শাহিনের সহপাঠী নাজমুলও (৮) ওই ভাটায় কাজ করে। সে উপজেলার কাশিরাম ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে।
তাদের মতো অসংখ্য শিশু উপজেলার প্রায় ৪২টি ইটভাটায় কাজ করছে। অনেক শিশুকে দেখা গেছে ইটভাটার মূল প্লাটফর্মের উপরিভাগে কাজ করতে। তাছাড়া অনেকে চুল্লিতে কয়লা বা কাঠ দেওয়ার কাজও করছে; যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় মাটিভর্তি ট্রলি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার কাজ করতে দেখা যায় শিশুদের।
এ ব্যাপারে কথা হয় এমএম ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শিশুরা কাজ করছে তাতে কী হয়েছে। এ কাজ তো বেশি কষ্টদায়ক নয়। গরিব মানুষ এখানে কাজ করে যে আয় করছে, তাতে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে। এ বিষয়টি তো সাংবাদিকদের দেখার কথা নয়। এগুলো যাদের দেখার কথা তাদের গিয়ে বলেন।’
ফাইভ স্টার ব্রিকস ফিল্ডের মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘শিশুরা স্কুল ছুটির পর ইটভাটায় কাজ করে। এতে তো কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া শিশুরা তো এখানকার নিয়মিত শ্রমিক নয়। তাই এ ব্যাপারে কারও নাক গলানোর প্রয়োজন নেই।’
এলাকাবাসীর দাবি—পরিবেশ দূষণ, কৃষি জমির মাটি ইচ্ছা মতো কেটে নেওয়া এবং কৃষি জমিতে ইটভাটা গড়ে তুলে আশপাশের জমির আবাদ নষ্ট করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয় না।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাসিম আহমেদ জানান, এ সংক্রান্ত আইন রয়েছে; তবে তা এখনও গ্যাজেটভুক্ত না হওয়ায়, প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এরপরও ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইন অমান্যের কোনও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিশুশ্রমের বিষয়ে।
রংপুর বিভাগীয় কলকারখানা পরিদর্শন দফতরের উপমহাপরিদর্শক সোমা রায় বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে ইটভাটার নাম বলেন—যেখানে শিশু শ্রমিকেরা কাজ করছে। ব্যবস্থা নেবো। শিশু শ্রম প্রতিরোধে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’