স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
চলতি মৌসুমে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সরকারি গুদামে ন্যায্যমূল্যে আমন ধান ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে খাদ্য বিভাগ। খাদ্য গুদামে ধারণক্ষমতা না থাকায় রোববার কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে তালিকাভুক্ত ৮৮৬ জন কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ধুনট ও গোসাইবাড়ি সরকারি খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন করে খাদ্যশষ্য মজুদের ধারণক্ষমতা রয়েছে। চলতি মৌসুমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান ক্রয়ের জন্য ধুনট ও গোসাইবাড়ি খাদ্য গুদামের অনুকূলে ১ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ধুনট খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন এবং গোসাইবাড়ি খাদ্য গুদামে ৬৭৪ মেট্রিক টন।
এ উপজেলার ২৫ হাজার কৃষকের মধ্যে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৭৭০ কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। প্রতি কেজি আমন ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৬ টাকা। প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ১ মেট্রিক টন করে আমন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৯ ডিসেম্বর ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান ক্রয় করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধুনট খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৯৬ মেট্রিন টনের মধ্যে ২১০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এরপর ধুনট খাদ্য গুদামে জায়গার অভাবে ৮৮৬ মেট্রিন টন ধান ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে খাদ্য বিভাগ। তবে এ উপজেলার গোসাইবাড়ি খাদ্য গুদামে আমন ধান ক্রয় অব্যাহত রয়েছে। কিন্ত বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষক গোসাইবাড়ি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছে না।
উপজেলার গোসাইবাড়ি খাদ্য গুদামের উপ-খাদ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম বলেন, গোসাইবাড়ি খাদ্য গুদামের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৬৭৪ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে ১৮০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। এ গুদামে ধান মজুদের ধারণক্ষমতা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান শুকাতে না পেরে কৃষকেরা গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারছে না।
ধুনট গুদামের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, ১ হাজার ৯৬ মেট্রিক টনের মধ্যে ২১০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। কিন্ত খাদ্য গুদামে জায়গা না থাকায় ৮৮৬ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সেকেন্দার রবিউল ইসলাম বলেন, ধুনট খাদ্য গুদামে জায়গা স্বল্পতার কারণে ধান ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। খাদ্য গুদামে প্রয়োজনীয় জায়গা খালি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হবে।