স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম। ওদিকে আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর। দুই উপজেলার গ্রাম দুটির ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনা। উপজেলা দুটি আলাদা করেছে নদীটি।
গত ৪৮ বছরেও পূরণ হয়নি দুই অঞ্চলের মানুষের একটি আকাঙ্খা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসছে একটি ব্রিজের।এখনো পূরণ হয়নি সে দাবি। তবে সম্প্রতি নদীটির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের সাকো। ঘাট ইজারাদারের উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণের ফলে রাণীনগর আর আত্রাই উপজেলার দুটি ইউনিয়নে বসবাসরত মানুষের মধ্যে যোগ হয়েছে নিবিড় বন্ধন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে স্বাধীনতার প্রায় অর্ধ শতাব্দি পার হয়েছে। এখনো একটি ব্রিজে অভাবে বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হতে হয়। আর শুকনো মৌসুমে এখন বাঁশের সাঁকোই ভরসা।
জানা গেছে, রাণীনগর সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে সীমান্ত ঘেঁষে আর আত্রাই সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে বয়ে গেছে নদীটি। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বছরের বেশি সময় ধরে বন্যার পানি চারদিকে থৈ থৈ করে। তখন পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ভাড়ায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি কমতে থাকে। পানি-কাদায় একাকার হয়ে যায় তখন। এ সময় পায়ে হেঁটে উপজেলার আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে জেলা ও উপজেলা সদরে যেতে হয়।
নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে যখন নৌকা চলাচল বন্ধ থাকে, তখন ঘোষগ্রাম-ক্ষিদ্র কালিকাপুর নামক স্থানে নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকোটির ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোনো পথ নেই। এ অবস্থায় আত্রাই উপজেলার বিলবেষ্টিত কালিকাপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলো অবহেলিত হয়ে পড়ে। এসব জনপদের মধ্যে আটগ্রাম, হরপুর, তারানগর, বাউল্লাপাড়া, ঝিয়াড়িগ্রাম, শলিয়া বড়কালিকাপুর গ্রামসহ রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, নান্দাইবাড়ি, আতাইকুলা বেতগাড়ী অন্যতম। গ্রামগুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার লোকের বসবাস হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্র প্রদত্ত সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে দুই উপজেলার মানুষ।
গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ইরি ধান উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন শস্য ও শাকসবজি বাজারজাত করতে পারেন না। এতে নায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন তাঁরা। তখন বাধ্য হয়ে ফরিয়া ও মহাজনদের কাছে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে তা বিক্রি করতে হয়। উল্লেখিত স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণে দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি তাদের। তবে প্রকল্প আসে প্রকল্প যায়, এলাকাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে কারো যেন মাথাব্যথা নাই।
আত্রাই উপজেলার ক্ষিদ্র কালিকাপুর গ্রামের আকবর আলী সরদার (৭০), আব্দুর রউফ (৪৮), রুহুল আমিন বিকাশ (৩৫), বেলালসহ গ্রামবাসী জানান, এখানে ব্রিজ না থাকায় প্রায় সারা বছরই কষ্ট করে নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।
আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক নাদিম বলেন, ‘দুই উপজেলার মধ্যে নদী পারের জন্য বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নৌকা এবং বাঁশের সাঁকোর ওপর ভরসা রাখতে হয় প্রায় আট গ্রামের মানুষকে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম এমপিসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনজর কামনা করছি।’