সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ইতোমধ্যে যমুনার চরাঞ্চলের নিন্মভূমি প্লাবিত হয়েছে। শত শত একর ফসলি জমি ডুবে গেছে। দ্রুত গতিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি সমতল রয়েছে ১২.১৬ মিটার এবং বিপদসীমার ১১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ সেন্টিমিটার। এখন থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা (১৩.৩৫ মিটার) অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
তিনি আরো বলেন, ৩২ বছরের মধ্যে এত দ্রুতগতিতে যমুনায় পানি বাড়তে দেখা যায়নি। এ কারণে এ অঞ্চলে এবার প্রবল বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের ফসলি জমিগুলো তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। যমুনা নদী অধ্যুষিত জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ৩০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) হাবিবুল হক জানান, চরাঞ্চলের ৯০ একর জমির পাট, ৫০ একর জমির তিল সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও টানা বৃষ্টির ফলে ৫৮০ একর জমির সবজির সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পানি বাড়তে থাকলে বাদাম ও ভুট্টার ক্ষতি হয়ে যাবে।
এদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সচিব জনাব কবির বিন আনোয়ার সিরাজগঞ্জের পরিদর্শনে এসে, ‘যমুনাবিলাস’ বাপাউবোর বাংলোয় এক জরুরি মিটিংয়ে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া, পাবনা, বেড়া, নাটোর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীগণকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।