বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলাস্থ খান পরিবারের সন্তান হোমিও ডাক্তার আব্দল গনি খানের নাতী, আইনুল কবীর খান সুজার সন্তান মোঃ কামরুল হাসান খান পাভেল আজ বৃহস্পতিবার (০৯ ফেব্রুয়ারী) বগুড়া প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন তার বাবা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যায় এবং তার জীবদ্দশায় তিনি পৈত্রিক জমিতে ৭ তলা একটি ভবন নির্মান করেন। ওই ভবন নির্মান কালে তিনি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং ব্যবসাতেও লোকসানের মুখোমুখি হন। তাতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এসময় তার পূর্ব পরিচিত দাদন ব্যবসায়ী তার ভাড়াটিয়া তানজিনা আফরিন জেবা এর কাছ থেকে গত ২০১৬ সালে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার নেন। ধারের বিপরীতে তিনি জেবাকে স্বাক্ষর করা দুটি সাদা চেকের পাতা প্রদান করেন । যার নং হলো (১২৩৭৬১৫ ও ১২৩৬২৩ প্রাইম ব্যাংক) এব্যাপরে একটি চুক্তি পত্র হয়। চুত্তির সকল শর্ত পূরণ করলেই জেবার সাথে তার মনোমালিণ্যের সৃষ্টি হয়। তখন জেবা তার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠায়। উকিল নোটিশে তিনি টাকা বাড়িয়ে ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি হতাশ হয়ে পরেন। পরবর্তীতে জেবা ওই টাকা আদায়ে মামলা করেন। ১৯-৩-২০ইং তারিখে মামলার রায় হয়। ওই মামলার তার পিতার এক বছর সাজা এবং দাবীকৃত টাকা জরিমানা করা হয়। এরই মধ্যে গত ১৪-২-২১ইং তারিখে তার বাবা মারা যান।তিনি আরো বলেন, মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার মামলা করায় তার পরিবার হতাশ হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তানজিনা আফরিন জেবা আমাদের ফ্লাটে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ফ্লাট থেকে বের করে দিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। তখন তিনি ৯৯৯ এ কল করেন। পুলিশ হাজির হলে তারা চলে যান। পরে তিনি বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিষয়টি জানান। তখন ওসি দুপক্ষকেই থানায় আসতে বললে জেবা আসেননি। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৬ ফেব্রুয়ারী তাকে কাগজপত্র নিয়ে তার অফিসে আসতে বলেন। দাদন ব্যবসায়ী জেবা অভিযোগ করেন তাকে তার ফ্লাটে ৬ ফেব্রুয়ারী মারপিট করা হয়েছে।বিষয়টি ওসিকে জানালে তিনি বলেন অভিযোগ করতে হবে না, আমি দেখছি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানান। অতিরিক্ত পুলিশ কোন ধরনের মিথ্যা মামলা না নেওয়ার জন্য ওসিকে বলেন। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষকে ডেকে টাকা পরিশোধ করার কথা বললে আমি অপারগতা প্রকাশ করায় ওসিকে জেবা ফ্লাট ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করতে ফ্লাটে পুলিশ পাঠিয়ে মিমাংসা করতে বলেন। মিমাংসা না হলে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হবে বলে জানান। পরে টাকা আদায়ের মিথ্যা অভিযোগের মামলার রায়ে টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আবার সার্টিফিকেট মামলা হয়। মামলার শুনানী চলমান। মামলা চলাকালে জেবা প্রতি নিয়ত সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাড়িতে হুমকি দেয় এবং ফ্লাট দখলের চেষ্টা করে। আমি ও আমার পরিবার এহেন হামলায় ভীত হয়ে মেয়ে ও ছেলেদের স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, তার স্ত্রী ও মা জেবার মিথ্যা অভিযোগ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না এবং শংকার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হয়রানী থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে জানান। তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ফ্লাট বেদখল হতে মুক্ত থাকতে সাংবাদিক সহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার মা গিনি পারভীন, স্ত্রী ও সন্তানরা।