চেক চুরি করে মালিকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর মামলা; অবশেষে আপোষ

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২

বগুড়া পৌরসভার বড় কুমিরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ জিয়াউল হক। তিনি বর্তমানে প্রবাস ফেরত। ২০১৮ সালে দেশে থাকা অবস্থায় বগুড়া শহরের মাটিডালিতে গৃহকর্মের কাজের জন্য একজন শ্রমিক খুঁজতে যান। সেখানে পরিচয় হয় জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার গোলাহার গ্রামের মৃত মিরাজ উদ্দীনের ছেলে মোঃ মোশারফ হোসেনের সাথে। কাজ এবং দামে মিলে যাওয়ায় মোশারফ হোসেনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মোঃ জিয়াউল হক।
মোশারফ হোসেন প্রায় একবছর যাবৎ জিয়াউল হকের বাড়িতে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করছে। এমতবস্থায় জিয়াউল হকের পরিবারের সবাই এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং রাতেও বাড়িতে ফেরে নি। এর সুযোগে গৃহকর্মী মোশারফ হোসেন গভীর রাতে জিয়াউল হকের বসবাসরত ঘরের আলমারী থেকে ইসলামী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের চেক বই চুরি করে। এ খবর কেউ জানতো না। পরে জিয়াউল চেক বই খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে নাজেহাল হয়ে পড়ে। পরে চেক হারিয়ে যাওয়ায় থানায় জিডি করেন।
২০১৯ সালে জিয়াউল হকের বাড়িতে মামলার নোটিশ পাঠায় গৃহকর্মী মোশারফ হোসেন। জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট আদালতে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার মামলা করে গৃহকর্মী মোশারফ। অসুস্থ শরীর নিয়েই হাজিরা অনুযায়ি আদালতে হাজির হয় কর্তা জিয়াউল হক। চতুর গৃহকর্মী মোশারফ হোসেন তাতের ক্ষান্ত হননি। ২০২০ সালে কর্তা জিয়াউল হকের স্ত্রী মোছাঃ তাছলিমা খাতুনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট আদালতে ৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলা করে। কর্তা জিয়াউল হক অসুস্থ শরীর নিয়ে ও তার স্ত্রী গর্ভাবস্থায় আদালতে হাজিরা দিতে যান। অবশেষে (২৬ অক্টোবর) বুধবার দুইপক্ষ রোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আপোষ করে।
ভুক্তভোগী গৃহকর্তা জিয়াউল হক জানান, আমি খুব বিশ্বাস করে ছেলেটাকে আমার বাড়িতে কাজ করার জন্য নিয়ে আসি। প্রথম এক বছর ভালোভাবেই কাজ করে। মামলার নোটিশ আসার পর জানতে পারি যে আমার বাড়ির কাজের লোকই আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শুধু আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ক্ষান্ত হয়নি। সে আমার স্ত্রীর নামেও মামলা করেছে। মোশারফ আমার বাড়ি থেকে চেক বই চুরি করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে। আসলে আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম আর অল্পতেই বিশ্বাস করেছিলাম।
গৃহকর্মী মোশারফ হোসেন বলেন, আমার মনের ভেতরে তখন লোভ কাজ করতো। আমার মালিক জিয়াউল হক আমাকে খুব বিশ্বাস করতো আর আপন ভাবতো। আমিও সুযোগে সৎ ব্যবহার করেছি। কিন্ত এখন আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ভুল বুঝতে পারার কারণে আমি স্বজ্ঞানে মামলা তুলে নিচ্ছি বা আপোষ করেছি।

বগুড়া জেলা নোটারী পাবলিকের এফিডেভিট সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্মী মোশারফ হোসেন তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং উভয়পক্ষ মিলে বগুড়া জেলা নোটারী পাবলিকের মাধ্যেমে একটি আপোসনামা করা হয়। গৃহকর্মী মোশারফ হোসেন আরোও উল্লেখ করেন যে তার মালিক (জিয়াউল হক ও স্ত্রী তাছলিমার) কাছে তার কোনও রকম দাবি থাকবে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023