পরীক্ষায় নকল করতে ‘ব্লুটুথ স্যান্ডেল’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট

সরকারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ‘ব্লুটুথ স্যান্ডেল’ পরে নকল করার দায়ে ভারতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরীক্ষায় নকলে সহায়তার জন্য তাদের স্যান্ডেলগুলো ছিল বিশেষভাবে তৈরি। এর ভেতরে বসানো হয়েছিল গোটা একটি মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, সঙ্গে ব্লুটুথ ডিভাইস। আর এ প্রতারণা ঘিরে সেখানে বিশাল একটি চক্রই গড়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজস্থানজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা পরীক্ষা (আরইইটি)। লিখিত এ পরীক্ষা বেশ কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে থাকে। এ বছর মাত্র ৩১ হাজার পদের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ পরীক্ষার্থী।

এ কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেকেই প্রতারণার আশ্রয় নেন। কিন্তু রোববারের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে গোটা একটি চক্রই। তারা নকলবাজ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুই লাখ রুপি (২ লাখ ৩১ হাজার টাকা প্রায়) করে নিয়ে একধরনের বিশেষ স্যান্ডেল ধরিয়ে দিতো।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রতন লাল ভার্গব বলেন, স্যান্ডেলটির ভেতরে গোটা একটি মোবাইল ফোন ও ব্লুটুথ ডিভাইস বসানো ছিল। তার সঙ্গে সংযুক্ত একটি ডিভাইস ছিল পরীক্ষার্থীর কানে, হলের বাইরে থেকে কেউ তাকে প্রতারণায় সাহায্য করছিলো।

পরীক্ষায় এ ধরনের প্রতারণা প্রথম ধরা পড়ে আজমিরে। এরপর পুলিশ দ্রুত রাজ্যের বাকি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক করে। এতে ব্লুটুথ ও মোবাইলযুক্ত স্যান্ডেলের খোঁজ পাওয়া যায় বিকানেয়ার এবং সিকার এলাকাতেও।

পুলিশের মতে, স্যান্ডেল প্রতারণার এই চক্রের হাত ধরে ছোট-খাটো একটি শিল্পই গড়ে উঠেছে। তার অত্যন্ত চালাকির সঙ্গে সাধারণ স্যান্ডেলের ভেতরে নকল করার যন্ত্রাংশ বসিয়ে দিতো। এরপর আগ্রহীদের কাছে এর দাম হাঁকাতো দুই লাখ রুপি পর্যন্ত।

আজমিরের পুলিশ কর্মকর্তা জগদীশ চন্দ্র শর্মা বলেন, আমরা নকলে সহায়ক স্যান্ডেলসহ একজনকে খুঁজে পাই। পরীক্ষার শুরুতেই আমরা তাকে ধরে ফেলেছিলাম। এরপর খোঁজ করি তার যোগসূত্র কোথায় ও এর সঙ্গে কারা জড়িত। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অন্য জেলাগুলোকেও সতর্ক করি।
পরীক্ষার পরের ধাপে কেউ স্যান্ডেল, জুতা বা মোজা নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

শিক্ষক নিয়োগের এ পরীক্ষা উপলক্ষে রাজস্থানের বেশ কয়েকটি জেলায় টানা ১২ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপরও নকলবাজরা ঠিকই প্রতারণার রাস্তা খুঁজে বের করে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023