ডেস্ক রিপোর্ট
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আশরাফ গানি সরকারকে হটিয়ে গত রোববার ক্ষমতা নিজেদের কব্জায় নেয় তালেবান। ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা প্রতিশোধমুলক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে, এমন শঙ্কা থাকলেও এ পর্যন্ত তেমন কোনো খবর আসেনি।
আফগানিস্তান ছেড়ে যারা চলে যেতে চাচ্ছে, তাদেরকেও যেতে দিচ্ছে তালেবানরা। কাবুল বিমানবন্দরে মার্কিন সেনাদের অবস্থান থাকলেও তাদের সঙ্গে কোনো সংঘাত বা লড়াই হচ্ছে না। নারী ইস্যুতেও আগের বারের তুলনায় নমনীয় দেখা যাচ্ছে তালেবানকে।
মেয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে। এ পর্যন্ত আফগানিস্তানে সরকারি কাজে নারীদের উপস্থিতিকে অগ্রাহ্য করছে না তালেবান। তবে তারা বলেছে, ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী নারীদের অধিকার দেয়া হবে।
কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে তালেবানদের চ্যালেঞ্জ করছে ভিন্ন একটি বিষয়, যা নিয়ে তারা হয়তো ভাবেওনি। আফগানিস্তানের যে পতাকাটি ছিল, যেটি আশরাফ গানি সরকারের আমলে খেলার মাঠ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উড়েছে, সেই পতাকাটির পুনর্বহাল চাচ্ছেন অনেক আফগান।
তালেবানদের পতাকা সাদা-কালো। সেই পতাকায় কালিমা শাহাদাত আরবি হরফে লেখা। আফগানদের একাংশের দাবি, আগের কালো, লাল ও সবুজ রঙের পতাকাটি। মুলত এ নিয়ে সরকার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি সুক্ষ্ম ফাঁটল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সদ্য সাবেক আফগান সরকারের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি কট্টরপন্থী তালেবানদের কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা পেতে সহায়তা করেছে। গানিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ মনে করছেন অধিকাংশ আফগান। এমনকি তার সরকারের কর্মকর্তারাও তাকে সরাসরিই বিশ্বাসঘাতক বলছেন।
আফগানিস্তানের পতাকা ইতোমধ্যে অন্তত ছয়বার পরিবর্তিত হয়েছে। এখন যে তিন রঙের (সবুজ, সাদা, কালো) পতাকা দেখা, এক সময় তা ছিল কেবল লাল; কখনো কেবল কালো। আগে আফগানদের পতাকা ছিল সাদা, কালো ও সবুজ। সেখানে লাল রঙ ছিল না। এ ছাড়া সাদা রঙের মধ্যে কালো হরফে কলিমা শাহাদাত লেখা পতাকাও দেখেছে আফগানিস্তান।
কিন্তু এবারের সংঘাত তালেবানের পতাকা বনাম সাবেক আফগান সরকারের পতাকার মধ্যে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তালেবানরা যেনো আগের পতাকাটাই ব্যবহার করে।
এ নিয়ে আফগানিস্তানের দুই স্থানে বিক্ষোভে দুই দিনে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। গত বুধবার জালালাবাদে তালেবানের পতাকা সরিয়ে লাল, সবুজ ও কালো রঙের আফগান পতাকা উত্তোলন করলে গুলিতে দুজন নিহত হন।
আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের আসাদাবাদ শহরে দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে অংশ নেয়া লোকজনের ভিড়ের মধ্যে তালেবানের গুলিতে অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন।
এতে এটাই দৃশ্যমান হচ্ছে যে, পতাকা কেমন হবে – তা নিয়ে আফগানদের একাংশের সঙ্গে বড় ধরনের মতানৈক্য তৈরি হতে পারে তালেবানদের।