স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুর পর উপনির্বাচন নিয়ে আবারও নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আলোচনা হচ্ছে কে হচ্ছেন মান্নানের আসনের এমপি। এ নিয়ে দলীয়ভাবে এবং আসনের ভোটাররা বিশ্লেষণ করে চলেছেন।
আর এই উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে এলাকায় কাজ করছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি এই আসনে নৌকার মাঝি হতে চান। সে লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এলাকার ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
বগুড়া-১ আসনের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা, ডাকসুর সাবেক সদস্য ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি তিনি। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ব্যবসায়ী, সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কদ্দুস ও মৃত রাশেদা বেগমের পুত্র। তিনি ১৯৮১ সালে বগুড়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ২য় স্থান এবং ১৯৮৩ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একই বোর্ডে ৩য় স্থান অর্জন করেছেন।
১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও ১৯৮৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক।
১৯৭৯ সালে স্কুল জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ৮১ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের সকল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে ৮৩-৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সূর্যসেন হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আরও বেড়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হন।
আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। প্রতিবছর দুই ঈদে এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি, শীতবস্ত্র, কম্বল ও দুস্থদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ১/১১ সহ বিভিন্ন সময়ে বিরোধীপক্ষের নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন তিনি। বিগত সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষে তিনি বলিষ্ট ভুমিকা পালন করেছেন।