ডেস্ক রিপোর্ট
টানা ১২৯ দিন বন্ধ থাকা পর আগামী ১৯ আগষ্ট থেকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটনের দুয়ার খুলে যাচ্ছে।
কঠোর লকডাউনের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর পর্যটন খুলে দেওয়ার ঘোষণায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের কুয়াকাটার ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের মাঝে আবারও প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁগুলোতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাছ চলছে। পাশাপাশি বেকার হওয়া পর্যটন কর্মীদের কাজে ফেরার নির্দেশনা দিয়েছেন মালিকরা।
হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্ধী ভ্রমণ পিপাসুরা পর্যটন কেন্দ্রে আসার জন্য মুখিয়ে আছেন। সরকারের স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা মেনেই পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তত রয়েছেন।
কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কানসাই ইন’ -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমীন বলেন, করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন হোটেল বন্ধ থাকার কারণে অনেক আসবাবপত্র মালামাল নষ্ট হয়েছে। ধারদেনা করে পুনরায় বিনিয়োগে ব্যবসায় ফিরতে হচ্ছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনি আলমগীর বলেন, সৈকত থেকে পর্যটকদের নিয়ে দর্শনীয় স্থানে যেতে ব্যবহৃত বোটগুলো অনেকদিন ধরে ব্যবহার হয়নি। ইঞ্জিনসহ নানা স্থানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। খাবার না জুটলেও ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে নতুন করে বিনিয়োগ করতে হবে।
সৈকতের ফটোগ্রাফার সমিতির সভাপতি মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ফটোগ্রাফারের ক্যামেরার লেন্সে হয় ফাঙ্গাস পড়েছে, না হয় ক্যামেরা বন্ধক রেখে খেয়েছে। এদের পুঁজি বলতে ২৫-৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা মাত্র। পর্যটন কেন্দ্র খোলার খবরে এই পেশার তিন শতাধিক মানুষ এখন আশার আলো দেখছেন।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এম.এ. মোতালেব শরীফ বলেন, করোনার প্রভাবে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার ব্যবসা বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে হাজার কোটি টাকার উপরে লোকসান হয়েছে কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ীদের।
তিনি বলেন, এই খাতে সরকার সহজ শর্তে ঋণ দেবার কথা বললেও ব্যাংকে কাগজপত্র জমা দিয়েও কুয়াকাটায় তারা কেউ পায়নি।
ট্যুরিস্ট গাইড ইমরান, আব্বাস ও চানচো রাখাইন জানান, বহু পর্যটক কুয়াকাটা আসার প্রস্তুতি নিয়েছেন। পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার খবর শুনে অনেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মতে লকডাউন শিথিল হওয়ায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে থাকা দুই শতাধিক ট্যুরিস্ট গাইড ট্যুরিস্ট জোনগুলোতে ইতোমধ্যে আনাগোণা শুরু করেছেন।
কুয়াকাটা পর্যটন ইয়ূথ ইন ও পর্যটন হলিডে হোমসের ব্যবস্থাপক সুবাস নন্দী জানান, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সক্ষমতার অর্ধেক গেস্ট নেওয়া হবে। এছাড়া দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে খোলার প্রস্তুতি হিসেবে ধোয়ামোছার কাজ চলছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আমরা এখনো চিঠি পাইনি। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মো. শহীদুল হক বলেন, পর্যটন কেন্দ্র ১৯ আগস্ট থেকে ওপেন হচ্ছে। জেলার নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চলতি বছর পহেলা এপ্রিল থেকে করোনার প্রভাবে দ্বিতীয়বারের মতো সরকার পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেন। এর আগে ২০২০ সালে করোনার প্রকোপ দেখা দিলে প্রথমবারের মতো পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার।