ছোট্ট কাঁধে বড় বোঝা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

মুক্তজমিন ডেস্ক

মা-বাবা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বড় ভাইসহ ছোট ভাইয়ের সাথে বসবাস মোঃ দাউদ ইব্রাহীমের। বয়স সবেমাত্র নয় বছর পেরিয়ে দশে পড়েছে। স্থানীয় সাভার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে দাউদ। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছর ধরে স্কুল কলেজ বন্ধ। সম্প্রতি স্কুলে অনলাইন পাঠদান শুরু হলেও অর্থ সঙ্কটে স্মার্টফোন কিনতে পারেনি ছোট দাউদের পরিবার। তাই স্কুলে অনিয়মিত সে। তাঁতশ্রমিক বাবা উপার্জনক্ষম হলেও দীর্ঘ দিনের মহামারি করোনায় কাজ নেই। সুতাকাটা শ্রমিক মায়েরও কাজ হয় না। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বড় ভাইসহ অসুস্থ ছোট ভাইয়ের জন্য প্রতিদিন কয়েক শ’ টাকার ওষুধ কিনতে হয়। আর তাই এ বয়সেই দাউদকে ধরতে হয়েছে পরিবারের হাল। বড় পরিবারের দায়িত্বের বোঝা এখন ছোট্ট দাউদের কাঁধে।

কয়েক প্যাকেট চিপস আর লজেন্স নিয়ে দোকানে পসরা সাজিয়ে বসেছিল দাউদ। সাথে টাকা রাখার ছোট্ট কৌটা। কেউ তার কাছ থেকে চিপস বিস্কুট কিনুক আর না কিনুক, ছোট্ট দাউদের মুখে সবসময় লেগে থাকে হাসি। আর মায়াবী চোখ জোড়া যেন বলে দেয় ওর মনের সব কথা।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাভার গ্রামে শিশুটির বাড়ির আঙিনায় সামনে দেখা হয় দাউদের সাথে। চিপস কিনবো কি-না সে কথা না জিজ্ঞেস করেই সে বলল, ‘ভাইয়া, কেমন আছেন?’ এরপর বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো। শৈশবের দুরন্তপনায় যার মেতে থাকার কথা ছিল, তার এমন বোঝা বয়ে বেড়ানোর কাহিনী শোনার প্রচেষ্টা।

ছোট্ট দাউদ জানালো, করোনায় লেখাপড়া বন্ধ। অনেকে স্মার্টফোনে অনলাইনে ক্লাস করছে। আমরা গরীব, তাই মোবাইল কিনতে পারিনি। উপবৃত্তির জমানো টাকা দিয়ে দোকান দিয়েছি। এই দোকানের সামান্য আয় দিয়ে প্রতিবন্ধী ভাইয়ের ওষুধ কিনি। মুনাফার টাকা স্মার্টফোন কিনে অনলাইনে ক্লাস করতে চাই।

‘মা-বাবার সাথে ভাইদের নিয়ে থাকতে হয়। মাঝে অসুস্থ ছোট ভাইয়ের অপারেশন করা লেগেছিল।’

তবে ঠিক কী ধরনের অপারেশন, সেটা বোঝেও না সে। প্রতিদিন যে রোজগার তা বাবার হাতে তুলে দেয় দাউদ। এর থেকেই পরিবারের দু’বেলা খাবারের পাশাপাশি ভাইয়ের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা হয়।

দাউদের বাবা মোঃ সোনালী মিয়া বলেন, করোনার কারণে আমি কাজ করতে পারি না। কিন্তু কী আর করার, ব্যাটা দোকান না চলালেও তো হয় না। স্কুল বন্ধ তাই দোকান চালাচ্ছে।

দাউদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, সে অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী ছেলে। ছাত্র হিসেবেও ভালো। তার পড়াশোনা করার যথেষ্ট আগ্রহ আছে। বর্তমানে আমরা অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছি। যাদের স্মার্টফোন আছে তারাই কেবল অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে।

স্থানীয় ১নং বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ হারুন-অর-রশিদ বলেন, করোনার কারণে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের পাঠদান আপাতত বন্ধ রয়েছে। পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়ে সাধ্যমত সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023