ডেস্ক রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে শীর্ষ সংস্থাগুলো বলছে, করোনার টিকা নেয়ার পরও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক মানুষ। টিকা নেননি এমন ব্যক্তিরা যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন, একই রকমভাবে টিকা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। নোভেল করোনাভাইরাস বিশ্ববাসীর জন্য যেমন শারীরিক, তেমনি মানসিক অনাকাঙ্খিত এক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। যদিও করোনা ভাইরাসের টিকা সময়মতো আবিষ্কার হয়েছে এবং তা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, কিন্তু সেই টিকা নেয়ারও পরও সংক্রমিত হওয়া এখন বড় এক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে পুরোপুরি টিকা নেয়া বহু মানুষ আবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে ভয়াবহ ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন, তারা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কম ঝুঁকিতে এবং অন্যদের মধ্যে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটান কম।
আবার সংক্রমণ
আবার সংক্রমণ- এটা আবার কি? এর কি কোনো ইতিবাচক অর্থ আছে? না। এক্ষেত্রে এটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত। যেসব মানুষ করোনা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন এবং তারপরও সার্স-কোভ-২তে বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের আক্রান্ত হওয়াকে বলা হয় আবার সংক্রমণ বা ইংরেজিতে ব্রেকথ্রু ইনফেকশন। এমন আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ হয়তো লুক্কায়িত থাকে, না হয় তাদের মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি অসুস্থতা দেখা দেয়। সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেউ কেউ মারাও যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতে যদিও এমন সংক্রমণ বা টিকা নেয়ার পরও সংক্রমিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবুও তা বিরল। এমন আক্রান্ত মানুষ খুব কমই অসুস্থ হন।
আসলেই কি টিকা নেয়া ব্যক্তি সংক্রমিত হন
বিশ্বজুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াতে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে করোনার টিকা নেয়া আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টিকা নেয়ার পরে সংক্রমিত হওয়া একটি সাধারণ ধারণায় পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ, যারা টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন, তারা সংক্রমিত হয়েছেন। তবে এতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমে এসেছে। এ ছাড়া ভয়াবহ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে গেছে। তবে এই টিকা পুরোপুরিভাবে ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে কিনা তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।
টিকা নেয়া ব্যক্তিরা কতটা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা না নেয়া ব্যক্তিরা এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার যে পরিমাণ ঝুঁকিতে, দুই ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তার অর্ধেক। এই গবেষকরা বাসাবাড়িতে থাকা প্রায় ৯৮,২৩৩ জন ব্যক্তির সোয়াব এবং নমুনা পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। তারা ওইসব নমুনার পিসিআর টেস্ট করেন ২৪ শে জুন থেকে ১২ই জুলাই পর্যন্ত। এতে দেখা গেছে, ৫২৭ জনের দেহে করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। ২৫৪ জনের সোয়াব পরীক্ষা করে সফলতার সঙ্গে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে ভাইরাসের অরিজিন বা উৎসের সন্ধানে। তাতে দেখা গেছে, শতকরা ১০০ ভাগই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।
এই গবেষণায় দেখা যায় যেসব মানুষ টিকার দুটি ডোজই নিয়েছেন মারাত্মক সংক্রমণ এবং অন্যদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার হার তাদের মধ্যে কম। তবে টিকা নেননি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার অনেক বেশি। এতে আরো বলা হয়, যদি পুরোপুরি টিকা নেয়া কোনো ব্যক্তি এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে প্রতি ২৬ জনের মধ্যে একজন সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পক্ষান্তরে টিকা নেননি এমন ব্যক্তিদের প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন এমন আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছেন।
কার বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে
গবেষণা অনুযায়ী, ১৩ থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি আছে। একই অবস্থা ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও। টিকা না নেয়া ব্যক্তিরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। একই সঙ্গে তারা এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারেন সহজে।
পুরো টিকা নেয়া ব্যক্তিদের যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে
পুরোপুরি টিকা নেয়া ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু লক্ষণ প্রদর্শন করতে পারেন। তবে এর ভিন্নতা হয়। জেডওই কোভিড লক্ষণ বিষয়ক গবেষণা অনুযায়ী, তারা একটি অ্যাপের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের লক্ষণ সংগ্রহ করেছে। যারা টিকা নিয়েছেন তাদের লক্ষণে বেশি ভিন্নতা আছে। সম্প্রতি যেসব লক্ষণ দেখা দিয়েছে তা হলো- মাথাব্যথা, নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, হাঁচি, গলা শুকিয়ে আসা ইত্যাদি।