শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
অদম্য মেধা ও সাফল্যের গল্পে সংবর্ধিত বগুড়ার শিবগঞ্জ-মোকামতলার ২৩৩ শিক্ষার্থী’। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক পা হারিয়েছিল মাহফুজ। হঠাৎ নেমে আসা সেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামিয়ে দিতে পারেনি তার স্বপ্নের পথচলা। একটি পা হারিয়েও হুইলচেয়ারকে সঙ্গী করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। প্রতিকূলতাকে জয় করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অর্জন করেছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। মাহফুজের এই অদম্য সাফল্যের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই। আর তখনই তার পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
শুধু অভিনন্দন জানিয়েই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। মাহফুজের জীবনের সংগ্রামের কথা শুনে তার উচ্চশিক্ষাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি নিজের খরচে মাহফুজের জন্য কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার কৃত্রিম পা লাগানোর কাজ শুরু হবে। মাহফুজ শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ঠাকুরপাড়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে। মাহফুজের গল্প যেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য কৃতি শিক্ষার্থীদেরও নতুন করে অনুপ্রেরণা দেয়। একটি পা হারিয়েও যে ছেলেটি গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারে, তার স্বপ্ন পূরণের পথে সমাজ ও রাষ্ট্রের সহায়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ-তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও স্বপ্নই আগামী দিনের বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। মাহফুজের মতো অদম্য শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। এসময় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কল্যান রাষ্ট্র গড়তে চান। সেই রাষ্ট্র গড়তে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
এ সময় কৃতি শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করতে বিশেষ ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। দেশের সেরা ১০টি কলেজের যেকোনো একটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়াও সকল স্কুল ছাত্রীকে বাই সাইকেল উপহার দেয়ার ঘোষনা দেন তিনি। তার এ ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়। ২৬ আগষ্ট ২০২৬, বুধবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার মোট ২৩৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত সনদপত্র, মগ, নগদ অর্থ, দুটি খাতা, ছয়টি কলম, স্কুলব্যাগ এবং তিনটি করে ঔষুধী, ফলজ ও বনজ বৃক্ষ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাই ছিল সাফল্যের উচ্ছ্বাস, স্বপ্নের প্রত্যয় আর মানবিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ২৩৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে যখন সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন তাদের চোখেমুখে ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন। আর সেই আয়োজনেই মাহফুজের জীবনের গল্প সবাইকে মনে করিয়ে দেয়—শরীরের কোনো অঙ্গ হারালেও স্বপ্ন হারাতে হয় না; অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব।