মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ নিজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় গুলশানের চাঁদাবাজির ঘটনায় তার নাম আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ সিসিটিভির ফুটেজ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই রাতের বেলা খাবার খেতে ৩০০ ফিটে বের হই। তবে সেদিন রাতে বের হয়েছিলাম কিনা তা স্মরণে নেই।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না—এমন প্রশ্নে আসিফ মাহমুদ বলেন , ‘নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত এখনো নেইনি। তবে তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর সরকার থেকে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন করলে কোন দল থেকে করবো তা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কার্যক্রমের মূল্যায়নে তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের জায়গা থেকে অনেক অর্জন রয়েছে। তবে কতটুকু জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে তা জনগণ মূল্যায়ন করবে।’
ভোরে নীলা মার্কেটে বন্ধ থাকলে ওয়েস্টিনে খেতে যান উপদেষ্টা আসিফ
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের ঢাকার গুলশানের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম এসেছে। জানে আলম অপুর দেওয়া ওই বক্তেব্যের ভিডিও বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কাছে সাংবাদিকরা মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তাই এ নিয়ে বেশি মন্তব্য করা উচিত না। আসলে আমার নামটা আসার পর আমি অবাক হই। জানে আলম অপুকে চিনতাম, যখন আমি ছাত্র অধিকার পরিষদে ছিলাম, ২০২২ সালে। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম তখন, সে-ও ছাত্র অধিকার পরিষদ করতো। সে সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিতে ছিল বোধ হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি।’
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই ধরনের একটি অভিযোগ আসার পর আবার আরেক জায়গা থেকে জানতে পারলাম, স্ত্রী পরিচয়ে একজন সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন অপুকে গুম করে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্টরুমে এগুলো হতো, আমাদের এখানে আয়নাঘর ছিল, ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর এগুলো অকার্যকর। আবারও সেই প্র্যাকটিসের দিকে যাচ্ছি কি না! একটা শঙ্কার বিষয় আছে!’
বলতে বলতে তিনি ভোরের দিকে বাইরে খেতে যাওয়ার প্রসঙ্গও আনেন। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, রাতে মাঝে মধ্যে কাজ শেষ করতে কখনও কখনও ভোর হয়ে যায়, ওই সময় খাবার দেওয়ার জন্য বাসায় কেউ থাকে না। বেশিরভাগ সময় তখন তিনি ৩০০ ফিটের নীলা মার্কেটে যান। ওখানে খুব ভালো হাঁসের মাংস পাওয়া যায়। ৪-৫ জন মিলে সেখানে যান। আবার ভোর হয়ে গেলে সেখানে দোকান বন্ধ থাকে। তখন গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে যাওয়া হয়।
তবে জানে আলম অপু তার বক্তব্যে যেদিন আসিফ মাহমুদ গুলশানে গিয়েছিলেন এবং দুইজনের দেখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন, সেদিন ওখানে গিয়েছিলেন কি না খেয়াল নেই এই উপদেষ্টার। এরপর সাংবাদিকেরা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার কাছে জানতে চান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলে করে যাওয়া ব্যক্তি কি তিনি-ই ছিলেন?
আসিফ মাহমুদ জবাব দেন, সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা যে কাউকে যদি আমাকে বলে দাবি করা হয়, এটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য? আমি এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাই না। তদন্তাধীন বিষয় যেহেতু। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। যার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাকে একজন নেতার বাসায় জোরপূর্বক বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।