মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:জম্মু ও কাশ্মীরের বুকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা কিম্বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্রমেই বড়সড় ‘থ্রেট’ হয়ে উঠছে, ‘বেডরুম জেহাদি’। এরা কারা? বলা হচ্ছে, বর্তমানে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ডিজিটাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে উপত্যকার বুকে ভাঙনের বীজ ছড়ানোর চেষ্টা করে চলেছে। আট বছর আগে, জম্মু ও কাশ্মীরে একই ধরনের ট্রেন্ড জেখা গিয়েছিল। সালটা ছিল ২০১৭। তবে তারপর এই ‘বেডরুম জেহাদি’রা ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়। রিপোর্ট বলছে, ফের আবার কাশ্মীরের বুকে মাথাচাড়া দিচ্ছে বেজরিম জেহাদিরা।
এই বেডরুম জেহাদিরা নিজের বাড়ির ঘরের মধ্যে থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বুকে বিচ্ছিন্নতার আগুন জ্বালাতে সিদ্ধহস্ত। এরা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে উস্কানিমূলক ভুয়ো তথ্য দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের বুকে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে খবর। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-র এক রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। জানা যাচ্ছে এর নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান! (প্রতীকী ছবি)
খবর, একগুচ্ছ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল যা পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তারাই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসাবে বিশেষ তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে। তারা ভূস্বর্গের স্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া স্পেসে ঢুকে বিচ্ছিন্নতা, দাঙ্গার জন্য উস্কানি ছড়িয়ে দিচ্ছে। মূলত, মোবাইল, কম্পিউটার থেকে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে উপত্যকার যুব সমাজের ওপর প্রভাব ফেলা এদের টার্গেটে।
জানা যাচ্ছে, ৮ বছর আগে বেডরুম জেহাদিরা মাথাচাড়া দিয়েছিল কাশ্মীরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ধরাশায়ী হয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার পর এই বেডরুম জেহাদিদের খোঁজ সেভাবে মেলেনি। তবে সদ্য ভূস্বর্গে বিধানসভা নির্বাচবনের পর থেকে এদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রিপোর্টে বেশ কিছু অফিসারের বক্তব্যকে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই বেডরুম জেহাদিদের টার্গেট কাশ্মীরের সরকার ফেলে দেওয়া।
এমন বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণের মধ্যে একটি হল, কাশ্মীরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা এক কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য বিস্তারিতভাবে ফাঁস হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১ স্থানীয় ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। সেই ধৃতই পুলিশি জেরার মুখে জানিয়েছে, কাশ্মীরে সীমান্ত পার থেকে এই কাজ করার জন্য তার কাছে নির্দেশ আসে। ঘটনার তদন্তকারী এক অফিসারের মতে, ‘বিছানা বা সোফায় বসে থাকা যে কেউ হাজার হাজার চ্যাট গ্রুপের যেকোনো একটিতে ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে পারে, এবং সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মধ্যে ডুবে যেতে পারে।’’