মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট:রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক কিশোরকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা শনিবার রাত ও রোববার বিকেলে ওই কিশোরের বাড়িসহ সনাতন সম্প্রদায়ের ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করেছে। পরে রোববার বিকেলে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেপ্তার কিশোর একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ি ইউনিয়নের একটি গ্রামে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান বলেন, ওই কিশোর ফেসবুকে ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর লেখা ও ছবি দিয়েছে- এমন অভিযোগ পায় পুলিশ। পরে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে শনিবার রাতে থানায় আনা হয়। পরে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয় তাকে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর তার বিচারের দাবিতে মিছিলসহ উত্তেজিত লোকজন তার বাড়ির সামনে যায় এবং কিশোরের এক স্বজনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। পরে রাতে থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার বিকেলে ফের উত্তেজিত লোকজন হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে এমন খবরে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তারা সেনাবাহিনীর সাহায্য চান। বিকেলে লোকজন বাড়িঘরে হামলা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। আহত হন এক পুলিশ সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দা জ্যোতিষ মোহন্ত বলেন, আলদাদপুর গ্রামটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সীমানা এলাকা। দুপুরে গ্রামের পাশে কিশোরগঞ্জের বাংলাবাজার এলাকায় মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে সেখান থেকে উত্তেজিত জনতা এসে ওই কিশোরের গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর চালায়। রোববার রাত ৯টার দিকেও ওই গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।
গঙ্গাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’ ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।