মুক্তজমিন ডিজিটাল রিপোর্ট: উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। তারা বলছেন, কেউই ক্লাসে ফেরার মতো অবস্থায় নেই। এ পরিস্থিতিতে কবে ক্লাস শুরু হবে, সিদ্ধান্ত নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর নেই। কারও কাছে তথ্য থাকলে হেল্প ডেস্কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
সোমবার বিমান দুর্ঘটনার পর থেকেই বন্ধ মাইলস্টোন স্কুল। বুধবার কাউকে ক্যাম্পাসে ঢুকতেও দেওয়া হয়নি। তারপরও ভিড় করেছেন অনেকে। এসেছিলেন শিক্ষার্থীদের অনেকেই। তারা বলছেন, ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। শিশুদের মানসিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরাও একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আধা পোড়া অবস্থায় দেখেছি। এমনকি ৮০–৯০ ভাগ পোড়া অবস্থাতেও দেখেছি। এই অবস্থায় কার মেন্টালিটি থাকে ক্লাস করার? স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে একটা ভয় তো থাকবেই। সেটা চিন্তা করতে গেলে তারা তো একটা ট্রমার মধ্যে থাকবে।’
একজন অভিভাবক বলেন, ‘বাচ্চারা তো আতঙ্কিত হয়ে গেছে। যে সাউন্ড হয়েছে, আগুন দেখেছে। সে বারবার ওই কথাই বলছে। কিছু হাতকাটা, কিছু পা কাটা, কিছু মাথা নেই। এটা দেখে সে মানতেই পারছে না। আমরা সবাই ট্রমায় আছি। বাচ্চারা কীভাবে এখানে এসে ক্লাস করবে? কীভাবে লেখাপড়ায় মন দেবে? খুবই চিন্তায় আছি।’
হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা খুঁজতে ৭ সদস্যের কমিটি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক রাসেল তালুকদার বলেন, ‘আপনারা কাইন্ডলি মাইলস্টোনের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে যে তথ্য সরবরাহ কেন্দ্র আছে, কোনো প্যারেন্টস কোনো বাচ্চা যদি মিসিং থাকে অনতিবিলম্বে যোগাযোগ করুন।’ রোববার অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ, সেখানেই হবে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত। গত সোমবার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ডে কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন যাদের বেশিরভাগই ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী।