বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বগুড়া শহরের নবাববাড়ী রোডে অবস্থিত সরিফা ট্রেড সেন্টারের ৫ম তলায় দৈনিক মুক্তজমিন ও আমার সোনার দেশ পত্রিকা অফিসে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুট পাটের ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত নামা আরো ২৫/৩০ জনকে আসামী করে সদর থানায় মোছাঃ আকিলা সরিফা সুলতানা খানম বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে।
আসামীরা হলেন, বড়গোলা টিনপট্টির সুপার বৈশাখী প্লাজার মৃত্য মোসলেম উদ্দিন ব্যাপারীর পুত্র মোফাজ্জল হোসেন রঞ্জু ওরফে ধলা মিয়া (৫০), কাটনার পাড়ার এনায়েত আলী খান লেনের এ.টি.এম রুহুল আমিন (সঞ্জিব) এর নিকাহিতা স্ত্রী মাহবুবা সরিফা সুলতানা আমেনা (৪৬), একই এলাকার আবুল হোসেন খোকন ওরফে ব্যাঙ্গা খোকনের স্ত্রী নাদিরা সরিফা (বিলকিছ) (৪৫) ও তার পুত্র সাকিব হোসেন নিলয় ওরফে ক্যালা নিলয় (২৪), জেলখানা মোড়ের (ইলিয়াস প্রাঙ্গণ) এলাকার মৃত তবিবর রহমানের পুত্র ফেরদৌস আলম ফটু (৫২) ও ফটুর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা (৪৪), এরুলিয়া চকপাড়ার মোঃ আব্দুল গোফ্ফারের পুত্র আতিকুর রহমান, শেরপুর থানার ধানগড়া এলাকার আকরাম হোসেন, উপশহর এলাকার মৃত ইসরাফিলের পুত্র মোঃ ওহাব বগুড়াগণ। বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার মাতা মৃত দেলওয়ারা বেগমের জীবদ্দশায় অত্র আসামীগণ বাদীর মাতার নিকট হতে জোরপূর্বক ও কৌশলে ৬৯৭ শতক জমি লিখে নেয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা। উক্ত বিষয় নিয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানম বাদী হয়ে জেলা বগুড়ার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ১১৭/২০২৩ অন্য প্রকার মোকাদ্দমা আনয়ন করে। তারই ধারাবাহিকতায় আসামীগণ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাদীর মাতাকে হত্যা করলে, আসামীগণের বিরুদ্ধে ৮৩২ সি/২০২৩ সদর কোকাদ্দমা আনায়ন করে বাদী। যা বর্তমানে পিবিআই বগুড়াতে তদন্তধীন রয়েছে। উক্ত কারনে আসামীগণ আমার ও আমার পরিবারের প্রতি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ও রাগান্বিত হয়ে ২৫/৩০ জন অজ্ঞাত নামা সন্ত্রাসী শ্রেণীর লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত ৫ আগষ্ট সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা হতে সন্ধ্যে ৭টা পর্যন্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দলনকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উক্ত আসামীগণসহ অজ্ঞাত নামা আসামীগণ বাদীর বাড়িতে মুক্তজমিন ও আমার সোনার দেশ পত্রিকা অফিস এবং Hotel 71 In এর ৪র্থ ও ৫ম তলায় অনাধিকার প্রবেশ করে বাদীকে টানা হেচড়া করে তাকে শ্লীলতাহানি ঘটে বাড়ি হতে তাকে বাহির করে তার ব্যবহৃত SAMSUNG S-24 Ultra, যার মূল্য- ২,৯০,০০০/- টাকা এবং ব্যবহৃত পার্স নিয়ে নেয়। উক্ত পার্সের ভিতর বাদীর মার্কেটের ভাড়া আদায়ের রক্ষিত ২,২০,০০০/- টাকা গলায় থাকা দেড় ভড়ি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং বাসায় রক্ষিত প্রায় ৯ ভড়ি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয় এবং বাদীর স্বামী আনোয়ার হোসেন রানার পত্রিকা অফিসের তালা ভাঙ্গিয়া বিদ্যুৎ বিল ও গ্যাস বিলের ৬০ লক্ষ টাকা লকার ভঙ্গিয়া নিয়ে যায়। এ ছাড়াও ৬টি কম্পিউটার মনিটর ২০টি সিসি টিভি, ২টি টিভি যার একটি ৬০ইঞ্চি ও ১টি ৩২ইঞ্চি অসিসে বাদীর স্বামীর ব্যক্তিগত অফিস রুম থেকে একটি ল্যাপটপ একটি কম্পিউটার, ৪টি ডিভিআর, ১টি পিসি, ১টি সিসি টিভি মনিটর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি ড্রয়ার ও লকার ভেঙ্গে শ্রমিকদের বেতন প্রদানের জন্য রক্ষিত ১০ (দশ লক্ষ) টাকা নিয়ে যায় এছাড়াও Hotel 71 In এর ৪র্থ ও ৫ম তলা হতে ৩২ইঞ্চি ৭টি টি,ভি রিসিভশন হতে ১টি কম্পিউটর মনিটর, একটি ডাট্ বাংলা পাস মেশিন এবং হোটেলের ড্রয়ার হতে নগদ এক লাক্ষ পাচ হাজার টাকা বের করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামীগণ বাদীর স্বামীর অফিস রুমের ড্রয়ার হতে বাদীর স্বামীর ব্যবহৃত লাইসেন্সকৃত পিস্তলের ৩২ ব্লাংকের ৩০ রাউন্ড গুলি নিয়ে যায়। আসামীগণ বাদীর স্বত্ব দখলীয় বাড়িতে এহেন তান্ডব চালিয়ে ক্ষতি সাধন করে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হইতে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করলেও আসামীগণ অস্ত্র উচিয়ে জিনিস প্রত্রাদি নিয়ে যাওয়ার সময় বাদীর বাড়ি তার স্বামীর পত্রিকা অফিসসহ তার ব্যাক্তিগত অফিস এবং Hotel 71 In এর বিভিন্ন জিনিস প্রত্রাদি ও আসবাবপত্র ভাঙ্গিয়া বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে বাদী সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হলে তাহারা তাকে বাড়িতে উঠে দিয়ে যায়। আসামীগণের এহেন তান্ডবলীলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে প্রায় দেড় কোটি টাকার অধিক ক্ষতি স্বাধন হয়েছে। এ ব্যাপারে বগুড়া সদর ধানায় মোছাঃ আকিলা সরিফা সুলতানা খানম বাদি হয়ে গত ১৩ই আগষ্ট উক্ত অভিযোগ দায়ের করে। বগুড়া সদর ফাড়িঁর এস এই শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।