কোটা বাতিলের দাবিতে শহাবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪

কোটা বাতিলের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ -এর ব্যানারে ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পাস ছেড়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে জনসাধারণকে। দীর্ঘ যানজটের শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। বিভিন্ন মহাসড়কে অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই কোটা পদ্ধতির ফলে চাষার ছেলে চাষা, রাজমিস্ত্রীর ছেলে রাজমিস্ত্রী, মজুরের ছেলে মজুর থেকে যাবে। আমরা একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেবো, একই প্রশ্নে লিখব, একই প্রশ্নে ভাইভার মুখোমুখি হবো। কিন্তু তারা কোটা সুবিধার কারণে একাই এক শ সুবিধা পাবে, সেটা মেনে নেবো না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল।

ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয়। কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটাপদ্ধতি বাতিলবিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই চাকরিপ্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে নামছেন।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা পরিপত্র পুনর্বহালের পাশাপাশি আরও কিছু দাবি জানাচ্ছেন। এগুলো হলো, পরবর্তী সময়ে সরকার কোটাব্যবস্থা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া, সংবিধান অনুযায়ী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা, চাকরির নিয়োগের পরীক্ষায় কোটাসুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ করা ও কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।

এদিকে, টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শহর বাইপাসের আশেকপুর এলাকায় অবরোধ করেন। দেড় ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রেখে দ্রুত কমিশন গঠনের দাবি জানান তারা।

কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা ১১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান সম্বলিত ব্যানার প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে মিছিল নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের সামনে ঢাকার রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে শনিবার বেলা ১১টায় আন্দোলন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রায় আধাঘণ্টা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা থেকে মিছিল বের করে রায়সাহেব বাজার পেরিয়ে তাঁতীবাজার মোড়ে তারা অবস্থান নেন। পঞ্চম দিনের এই কোটাবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023