সৌদি আরবের পর্যটন দূত লিওনেল মেসি। চুক্তিকে সম্মান জানাতে মরুর দেশটিতে দুই দিনের সফরে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। তবে তার এই সফরে সম্মতি ছিল না কোচ ক্রিস্তফ গালতিয়েরের। অনুমতি ছাড়া সেখানে যাওয়ায় তাকে দুই সপ্তাহের জন্য বরখাস্ত করেছে পিএসজি।
তাতেই শেষ নয়, সৌদি সফরের জেরে প্যারিসে মেসির স্থায়ীত্ব আর দীর্ঘ হচ্ছে না। কারণ, এমন ঘটনার পর পিএসজি কর্তৃপক্ষ যে মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করবে না, এ ব্যাপারও মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে।
ফরাসি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম লেকিপ জানিয়েছে, ক্লাবের অনুমতি না নিয়ে সৌদি আরব সফরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কেক আর নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেবে না পিএসজি। যার অর্থ, পিএসজিতে মেসির ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে যাচ্ছে আগামী মাসেই।
২০২১ সালে বার্সেলোনা থেকে দুই বছরের চুক্তিতে পিএসজিতে এসেছিলেন মেসি। তবে তার চুক্তিতে তৃতীয় বছর থাকা নিয়েও একটি ‘ঐচ্ছিক’ ধারা ছিল। লেকিপের খবর, চুক্তির এই ধারাটি কাজে লাগানো হবে না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসজি।
ক্লাবের অনুমতি না নিয়ে সৌদি আরব সফরে যাওয়ায় এর মধ্যেই মেসিকে দুই সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করেছে পিএসজি। এই সময়ে ম্যাচ খেলা বা অনুশীলন করতে পারবেন না এই মহাতারকা। তার দুই সপ্তাহের বেতনও কাটা যাবে।
নেইমার আর কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে মেসি যুক্ত হওয়ায় পিএসজিকে ভাবা হচ্ছিল প্রায় অজেয় একটি দল হয়ে উঠবে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে পিএসজি টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে।
পিএসজির সঙ্গে মেসির দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী মাসেই। গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই মেসির সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল পিএসজি।
কিন্তু গত পাঁচ মাসেও নতুন চুক্তি হয়নি। খবরে প্রকাশ, মেসির বেতনের চাহিদার সঙ্গে ক্লাব একমত না হওয়াতেই নতুন চুক্তির বিষয়টি এক জায়গায় আটকে আছে। মেসির ‘বিশ্বকাপজয়ী’ হিসেবে পিএসজির কাছে যে অঙ্কের বেতন চেয়েছেন, সেটি দেয়া নাকি পিএসজির পক্ষে সম্ভব নয়।