ইসরায়েলের কারাগারে দীর্ঘ ৮৭ দিন অনশনের পর খাদের আদনান নামের এক বন্দীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আল জাজিরা ও রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশর, কাতার ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আজ বুধবার সকাল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয় ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
দুটি সূত্র বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, জাতিসংঘ ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বুধবার ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিনা অপরাধে আটক ও বন্দী রাখায় আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন খাদের আদনান। ৮৭ দিনের মাথায় ভোরে তাকে কারাগারে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার এমন মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনে। এর প্রতিবাদে গাজা থেকে ইসরায়েলের দিকে ২০টির বেশি রকেট ছোড়া হয়।
জবাবে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যাকায় ট্যাংক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে গাজার অন্তত দুটি স্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে অন্তত ২৬টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এতে ২৫ বছর বয়সী এক বিদেশি নাগরিকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
এদিকে হামাস ও ইসলামিক জিহাদসহ ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার দায় স্বীকার করেছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আদনানের মৃত্যুর প্রাথমিক প্রতিশোধ হচ্ছে রকেট হামলা।
তবে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে তারা মিশর, কাতার ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি খাদের আদনানকে আটক করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।