শিরোনাম :

দাউ দাউ করে জ্বলছে রাজধানীর বঙ্গবাজারের কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩

রাজধানীর বঙ্গবাজারের মার্কেটে লাগা ভয়াবহ আগুন আশপাশের কয়েকটি মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ছে। আগুনের লেলিহান শিখা অনেক দূর থেকে দেখা যাচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৫০টি ইউনিট। আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রমেই ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠতে শুরু করেছিল রাজধানীর এই কাপড়ের বড় পাইকারি ও খুচরা মার্কেট।

এখানকার আদর্শ হকার্স মার্কেট, মহানগরী ও বঙ্গ গুলিস্তান নামে তিনটি অংশের দোকানে কয়েক হাজার দোকানি ঈদের জন্য নতুন নতুন কাপড়ের কালেকশন মজুদ রেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন ভালো বেচা-বিক্রির। কিন্তু মঙ্গলবার সকালের এক অগ্নিকাণ্ডে সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এ দিন ভোর সোয়া ৬টার দিকে লাগা হঠাৎ এই আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ধীরে ধীরে যোগ হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের নতুন নতুন ইউনিট। এখন পর্যন্ত আগুন নেভাতে অংশ নিয়েছে ৫০টি ইউনিট। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে ঢাকার সব ইউনিটকে।

এদিকে, আগুন লাগার খবরে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন ব্যবসায়ীরাও। চোখের সামনেই নিজেদের সম্বল এভাবে পুড়ে শেষ হতে দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

মার্কেটের ব্যবসায়ীরা যে যার মতো মালামাল বের করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন। আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে তারা অনেক মালামাল তুলেছেন। আগুনে সেগুলো পুড়ে গেছে।

অন্যদিকে বঙ্গবাজার মার্কেটে লাগা আগুন পাশের এনেক্সকো টাওয়ারে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কেটটিতে ৬টি কাপড়ের দোকান রয়েছেন মো. স্বপনের। কিছু মালামাল বের করে নিয়ে আসতে পারলেও সব মালামাল পুড়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে প্রায় কোটি টাকার মালামাল দোকানে উঠিয়েছিলাম। আমার সব শেষ, সব মালামাল পুড়ে গেছে।

শুধু স্বপন নয় তার মতো অনেক ব্যবসায়ী কান্না করছেন বঙ্গবাজার এলাকায়। অনেকে বিভিন্ন রকম অভিযোগও করছেন ফায়ার সার্ভিস নিয়ে।

কাউসার নামে আরেক ব্যবসায়ী হাউমাউ করে কান্না করছেন। আর বলছেন, ভাই ঈদ উপলক্ষ্যে লাখ লাখ টাকার মালামাল তুলেছি। আমার সব শেষ হয়ে গেলরে ভাই।

মোহাম্মদ সাইমন নামে আরেকজন ব্যবসায়ী দোকানে ১৪ লাখ টাকার মালামাল ছিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভাই আমাদের মার্কেটে সবসময় প্রচুর মালামাল থাকে। সকাল ছয়টার পরে শুনতে পেরেছি মার্কেটে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দ্রুত দৌড়ে আসি ঘটনাস্থলে। কিন্তু ভাই আগুনের তাপের কারণে ভেতরে যেতে পারি নাই। আমার দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঈদের ব্যবসা যেমন শেষ হইছে আর তেমনি সারা জীবনের জন্য এই ক্ষতিপুষিয়ে ওঠা আমার মতো মানুষের পক্ষে কঠিন।

এনেক্স টাওয়ারে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, আর ২০ দিন পরেই ঈদ। এ মার্কেটে পাইকারি বেচাকেনা হয়। সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কাপড় কিনতে আসেন। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা প্রচুর মাল উঠিয়েছে। গতকাল রাতে আমার বড় চালানের একটি মাল এসেছে। আল্লাহ ভালো জানেন এ মাল আমি আদৌ সরাতে পারবো কি-না।

 

তিনি আরও বলেন, সেহরি খেয়ে শুধু চোখ ঘুম এসেছে, তখনই আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত এখানে চলে এসেছি। দোকানের সব স্টাফদের নিয়ে মাল এখান থেকে সরাচ্ছি। কিন্তু মালামালগুলো কোথায় রাখবো সেই জায়গা পাচ্ছি না।

এদিকে, আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সেনা ও বিমান বাহিনীর ফায়ার সার্ভিস টিম। তারাও একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

আগুন নেভাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক, মুসলিম হলের পুকুর থেকে সাতটি পাইপ লাগিয়ে পানি নিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।

 

মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিটে ভয়াবহ এই আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে ৬টা ১২ মিনিটেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে তারা। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া শেষ খবর পাওয়া অবধি হতাহতের কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023