জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনু বলেছেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, বাঙালির জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই আন্দোলনে ছাত্রদের পাশাপাশি রাজপথে নেমে এসেছিল কৃষক,শ্রমি, চাকরিজীবী, রিকশাওয়ালা সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ফলস্বরূপ বাংলাভাষার মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন দ্রুত দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ-মিছিল,মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে মিছিল শুরু করেন। মিছিলে যোগ দেন সাধারণ মানুষও। পথশিশু থেকে শুরু করে কর্মজীবী,রিকশাচালকও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। পুলিশ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের কারণে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত,জব্বার -সহ আরও অনেকে। তিনি আরো বলেন রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ১১ ই মার্চ ঢাকার সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট সফল করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০ মার্চ গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েই প্রথম গ্রেপ্তার হন। এরপর ১৯৪৯ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকা সফরে এলে প্রায় পঞ্চাশ হাজার লোক নিয়ে বিশাল ভুখা মিছিল বের করেন শেখ মুজিবুর রহমান। প্রায় দুই মাস ধরে ভাষা আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে তীব্র গণসংযোগ শুরু করেন। ফলে ভাষা আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার জন্য আবারো শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান সরকার। এরপর একটানা ১৯৫২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলে বন্দি রাখে পাকিস্তান সরকার।
কারাগারে থেকেও বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন বেগবান করতে সকল প্রচেষ্টাই চালিয়ে গেছেন।সভাপতির বক্তব্যে মজনু আরো বলেন বঙ্গবন্ধুবিহীন এই বাংলাদেশে তাঁরই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বাঙালি জাতি হিসেবেই এটি আমাদের অত্যন্ত গৌরবের। এই মাতৃভাষা দিবসে সকল বঙ্গবন্ধু সহ সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এমপি তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন মূলত সাংস্কৃতিক আন্দোলন হলেও সেটা ছিল বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক আন্দোলনের উৎস। আর সেই সংগ্রামের উৎস ধরে ১৯ বছরের রক্ত পথ পেরিয়ে ১৯৭১ সালে তার সমাপ্তিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশের বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়, সার্থক হয় রক্তস্নাত একুশে ফেব্রুয়ারি স্বপ্ন।তিনি বলেন শত সংগ্রামে অর্জিত মাতৃভাষা, সেই ভাষার প্রতি সম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। ভাষা আন্দোলনে ইতিহাসের সাথে বগুড়ার ভাষা সৈনিক গাজীউল হক সহ অনেকেরই অবদানও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।বর্তমান প্রজন্মকে বগুড়ার ভাষা সৈনিকদের অবদানের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের আহ্বান জানান ।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ডঃ মকবুল হোসেন, টি জামান নিকেতা, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন মুকুল, প্রদীপ কুমার রায়, একেএম আসাদুর রহমান দুলু, শাহরিয়ার আরিফ ওপেল,অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন নবাব, অধ্যক্ষ শাহাদাত আলম ঝুনু, এডভোকেট তবিবুর রহমান তবি,বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক বাবলু, সেরিন আনোয়ার জর্জিস,অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম আক্কাস,নাসরিন রহমান সীমা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান মিন্টু,মাশরাফি হিরো, আনোয়ার পারভেজ রুবন,এসএম শাহজাহান, এবিএম জহরুল হক বুলবুল, খালেকুজ্জামান রাজা, তৌফিকুর রহমান বাপ্পীভান্ডারী,
আবু সুফিয়ান শফিক, আবু ওবায়দুল হাসান ববি,মাহফুজুল ইসলাম রাজ, ইমরান হোসেন রিপন, আহসানুল হক,সাইফুল ইসলাম বুলবুল, আলমগীর হোসেন স্বপন, আলতাফুর রহমান মাশুক, কামরুল হুদা উজ্জল,গৌতম কুমার দাস, হেফাজত আরা মিরা,আব্দুস সালাম, আলমগীর বাদশা, সাজেদুর রহমান শাহীন, আমিনুল ইসলাম ডাবলু,মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, জুলফিকার রহমান শান্ত,সাবরিনা পিংকি, রাকিব উদ্দিন সিজার, নুরুজ্জামান সোহেল,রাশেদুজ্জামান রাজন, সঞ্জীব সাহা, আল মাইদুল ইসলাম জয় প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল রাজী জুয়েল।
কর্মসূচিতে সাড়ে সাতটায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন, শহীদ বেদিতে এক মিনিট নীরবতা পালন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল আটটায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।