হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৫১টি পীঠস্থানের অন্যতম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহাসিক মা ভবানীর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উদযাপিত হয়েছে। রবিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দিনটিকে ঘিরে মন্দিরস্থলে হাজার হাজার পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছিল। সেইসঙ্গে অতীত জীবনের পাপ মোচনসহ পূন্যলাভের মা ভবানীর মন্দির সংলগ্ন শাঁখারী পুকুরে স্নান উৎসবে মেতে উঠেন তারা।
মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষ্যে শনিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পূণ্যার্থীরা আসতে থাকেন। এজন্য অসংখ্য দর্শনার্থী মন্দির এলাকা ও আত্মীয়স্বজনের বাসাবাড়িতে রাত্রি যাপন করেন। তাই পরদিন সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গন ও আশেপাশের এলাকা দর্শনার্থীদের পদভারে কাঁনায় কাঁনায় ভরে ওঠে। যেন মন্দির প্রাঙণে বসেছিল পূণ্যার্থীদের মিলনমেলা।
প্রতি বছর মাঘ মাসে পূর্ণিমার চাঁদের মাঘী পূর্ণিমার পঞ্জিকা তিথি অনুযায়ী এ পূন্যস্থানে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
ধর্মীয় শাস্ত্র্যমতে, মাঘী পূর্ণিমার দিনে এ স্থানে পূন্যলাভের আশায় হয়। হাজার হাজার ভক্ত নরনারী ও শিশু কিশোর মন্দিরের শাঁখা পুকুরে স্নান করেন। সেই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে রক্ষিত প্রতিমা দর্শন, পূজাঅর্চনা, ভোগদান, অর্ঘদান, মাতৃদর্শন করেন ভক্তরা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মা ভবানীর মন্দিরে সেবা-পূজা পরিচালনা উপ কমিটির আহবায়ক দিলীপ কুমার দেব বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারো শান্তিপুর্নভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করার সুবিধার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলগঠন করা হয়েছে। যাতে করে পূর্ণার্থীরা পূজা অর্চনা করতে পারেন। পাশাপাশি মন্দিরের পক্ষ থেকে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
এদিকে মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো মা ভবানী মন্দিরের চারপাশে মেলা বসেছে। মেলায় মিষ্টান্ন সামগ্রীসহ পাওয়া যায় রকমারি খাবার। সেই সাথে শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, ইতিহাস ঐতিহ্যখ্যাত বই পুস্তকও মেলায় পাওয়া যায়।