কর্মস্থলে ছুটি না পাওয়া এবং ট্রেন-বাসের টিকিট পেতে ভোগান্তিসহ নানা কারণে ঈদে গ্রামের বাড়ি যেতে পারেননি অনেকেই। তবে ঈদের পরে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ কমে যাওয়ায় আজও বাড়ি ফিরছেন মানুষ।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এমনটাই জানা গেছে।
রোববার (১০ জুলাই) ছিল পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে এ বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে। এতে সড়কপথের যানজট এবং ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পাওয়া নিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। এসব ভোগান্তি থেকে বাঁচতে অনেকেই গ্রামে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে যেতে পারেননি। অনেকেই আবার নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারেননি গ্রামে। তাই ঈদের পরে তারা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ছাড়ছেন।
লালমনি এক্সপ্রেসে বগুড়া যাবেন শফিকুল ইসলাম। ঈদের পরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের আগে ট্রেনের টিকিট পাইনি। বাসে গেলে অনেক ভোগান্তি হয়। তাই ঈদ করতে আর বাড়িতে যেতে পারিনি। এখন ঝামেলা ছাড়াই বাড়ি যেতে পারবো।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে যাওয়ার জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন আমিনুল ইসলাম। ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা আমিনুল বলেন, ঈদের আগে ট্রেনের টিকিট পাইনি। ছোট বাচ্চা নিয়ে বাসে যাওয়া খুবই কষ্টের। তাই ঈদের আগে বাড়ি যাইনি। এখন ভিড় কম, ট্রেনের টিকিটও পেয়েছি। ফলে সহজেই বাড়িতে যেতে পারবো। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও দেখা হবে।
এদিকে শুধু টিকিটের ভোগান্তির জন্যই নয় অনেকে আবার নানা কাজে রাজধানীতে আটকে ছিলেন। অনেকে গ্রামে যাচ্ছেন নানা প্রয়োজনে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা মো. কাউসার বলেন, ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন যাচ্ছি পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হবে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর যাবেন আব্দুল আলিম। এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আলিম বলেন, ঈদের কিছুদিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভোগান্তি হবে বলে ঈদের মধ্যে আর বাড়ি যাইনি। তবে বাড়িতে একটি বিয়ের দাওয়াত আছে, তাই এখন যাচ্ছি।
এদিকে আজ রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১২টি ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানান স্টেশনমাস্টার আফছার উদ্দিন।