নওগাঁর বদলগাছীতে ট্রিপল মার্ডার মামলায় দায়ে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ও একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক হাসান মাহমুদুল ইসলাম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার উজালপুর গ্রামের মৃত নছির হোসেনের দুই ছেলে সাইদুল (৩৮) ও আইজুল হক (৩২), আবুল হোসেন মণ্ডল (৫০) ও তার তিন ছেলে জালাল হোসেন (২৫), বেলাল হোসেন (৩৫) ও হেলাল হোসেন (২৫), হাসেমের ছেলে জায়েদ (২২), মৃত কালু মণ্ডলের ছেলে মোস্তফা (৩৫) এবং সাইদুল ইসলামের ছেলে সোহাগ আলী (২৩)।
এছাড়া একই গ্রামের মৃত মছিরের ছেলে হাসেন আলীকে (৩৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে সাইদুল, জায়েদ ও সোহাগ পলাতক রয়েছেন। অন্যরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে আসামি হাসেম আলীর। তিনি বদলগাছীর উজালপুর গ্রামের বাসিন্দা। রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বদলগাছীর উজালপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, তার ভাই আমজাদ হোসেন ও শ্যালক আব্দুল ওয়াদুদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ হাসেম আলী, সাইদুল, আইজুল, হেলালসহ অন্যান্য আসামিদের বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে জমির দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন ২০১৪ সালের ৬ জুন বিকেল ৩টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও আব্দুল ওয়াদুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত শহিদুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে ২৪ জনের নামে বদলগাছী থানায় হত্যা মামলা করেন।
অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়ার আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়। মামলাটি তদন্ত করে ২০ জনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় বাদী ও বিবাদীপক্ষের ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী (এপিপি) মোজাহার আলী বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ বাদীপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় ২০ আসামির মধ্যে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মামলার বাদী নিহত শহিদুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন বলেন, এই রায়ে আমরা খুশি। অবিলম্বে আসামিদের সাজা কার্যকর হলে আবার বাবা, চাচা ও মামার আত্মা শান্তি পাবে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট নই। দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবার উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন।