নোয়াখালীতে মন্দিরে হামলার নেপথ্যেও ছিল ‘ফেসবুকের উসকানি’: র‌্যাব

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
  • আপডেট সময় সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে মন্দিরে হামলা ও লুটের ঘটনার নেপথ্যেও ছিল ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের উসকানিমূলক ভিডিও। হামলা ও লুটের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতারের পর এই তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। সোমবার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বাহিনীর মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় মন্দিরে হামলার ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছিল। এসব ভিডিও দেখে চৌমুহনীর শ্রী শ্রী রাধামাধব জিউ মন্দিরে হামলা চালানো হয়। হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’

গ্রেফতাররা হলো- মনির হোসেন রুবেল, জাকের হোসেন রাব্বি, মো. রিপন এবং নজরুল ইসলাম সোহাগ। রবিবার (৭ নভেম্বর) বিভিন্ন সময় তাদের ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ বন্দর এবং নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘রংপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে হামলা ও ফেসবুকে গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে র‌্যাব এই পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।’

চৌমুহনীর ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মন্দিরের পূজার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রুবেল, রাব্বী এবং রিপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সবাইকে প্ররোচিত করে প্রত্যক্ষভাবে হামলায় অংশগ্রহণ করে। হামলা পরবর্তী গ্রেফতারকৃত রুবেল, রাব্বী এবং রিপন দুটি বস্তায় করে মন্দিরের বিভিন্ন পিতলের পূজার সামগ্রীসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ১৫ অক্টোবর চৌমুহনীর এই মন্দিরে হামলা হয়েছিল। চক্রের সোহাগের সহযোগিতায় ধাতব এই জিনিসগুলো রূপান্তর করে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল। মন্দিরে মালামাল লুট করার সময় রুবেলের ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে ভাইরাল হয়। গ্রেফতারকৃত রুবেল, রাকিব, রিপন এবং সোহাগ বিভিন্ন পেশায় জড়িত। গ্রেফতারকৃত রুবেলের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি সিঁদুরের কৌটা, ২০টি বাতির কৌটা, দুইটি দ্রুপতি, পাঁচটি পাঞ্জা, দুটি হাতে তৈরি প্রতিমা, ১১টি গ্লাস, পিতলের অংলকারসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে হামলার আগে রংপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রামে হামলার ক্ষেত্রেও ফেসবুকে উসকানি ছড়িয়ে মন্দিরে হামলা করা হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব। খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘মন্দিরে হামলার ঘটনা ও সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023