বাবা দুবাই, সৎ মায়ের যৌন নির্যাতনে মারা গেল শিশু মরিয়ম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট

পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার আড়াই বছরের শিশু মরিয়ম আক্তার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

এক মাস শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

শিশু মরিয়ম আক্তার ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বাঁশিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে। মোস্তফা কামাল দুবাই প্রবাসী। শিশুটির সৎ মা আলিফা আক্তার রিপা (৩০) মাগুরা জেলার সদর উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের রজব আলী বিশ্বাসের মেয়ে।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট শিশুর দাদা আফাজ উদ্দিন সৎ মা’কে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। স্বামীর কাছ থেকে একটি বহুতল পাকা ভবন লিখে নিতে লোভের বশবর্তী হয়ে সৎ মা এ কাজটি করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

শিশুর দাদা আফাজ উদ্দিন জানান, তার ছেলে মোস্তফা কামাল গত ১৩ বছর যাবত দুবাই প্রবাস যাপন করছেন। মোস্তফা কামাল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় ১৪ শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে তিনি পাঁচ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেন। আট বছর আগে সাবিনা ইয়াছমিন নামে এক নারীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করান। তাদের কোলে শিশুকন্যা মরিয়ম আক্তারের জন্ম হয়। শিশুটি জন্মের পর দুবাই প্রবাসকালীন অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপার সাথে মোস্তফা কামালের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। রিপাও বেশ কয়েক বছর দুবাই প্রবাসী ছিলেন। ওই সম্পর্ক পরে বিয়েতে গড়ায়। তারা উভয়ে দেশে ফেরেন। পরকীয়ায় জড়িয়ে ওই নারী মোস্তফা কামালের প্রথম স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে ত্যাগ করাসহ (বিবাহ বিচ্ছেদ) একাধিক শর্ত দেন। সকল শর্তে মোস্তফা রাজী হয়ে প্রথম স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান। ওই সময় শিশু মরিয়মের বয়স ছিল চার মাস। প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আলিফা আক্তার রিপাকে বিয়ে করেন শিশুর বাবা মোস্তফা কামাল।

গত ছয় মাস আগে তার আড়াই বছরের শিশুকে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে রেখে আবার দুবাই প্রবাসে চলে যান। এরপর থেকে শিশুটির পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন সৎ মা। পরবর্তীতে সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসা চলছিল। নির্যাতনে পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে সংক্রমণ তৈরি হয়ে যা ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো শরীরে। চিকিৎসকরা শিশুটির অস্ত্রোপচারও করেছিলেন।

অভিযুক্ত সৎ মা আলিফা আক্তার রিপা জেল হাজতে রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে যত দ্রুত সম্ভব মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023