মুক্তজমিন ডেস্ক
যেখানে আমাদের বসতবাড়ি ছিল। সেখানে গেলে এখন কান্না আসে। বাঁধ ভাঙ্গনের কারণে ঘর বাড়ি নদীর পানিতে ভেসে গেছে। কয়েকদিন আগে ভরা বাড়ি ছিল। বর্তমানে যেন তা শুধুই স্মৃতি। সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁধে আছি। এখানে গাছ-পালা না থাকায় প্রখর রোদে খুবই কষ্টে আছি। কথা গুলো বলছিলেন, ভেন্ডাবাড়ী কুটিপাড়া এলাকার বানভাসি আবু বক্কর সিদ্দিক।
একই এলাকার বানভাসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা এখানে বসবাস করছি। হঠাৎ করে বাঁধ ভাঙ্গবে এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। এখন আমরা খুবই অসহায়। একটি ঘরেই গবাদিপশু নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছি।
তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন আজ হয়ে উঠেছে এক রণক্ষেত্র! অভাব আর বন্যার মত শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে তারা। কিন্তু তবুও তারা ছাড়তে পারেনা তিস্তার পাড়। ছাড়বেই বা কি করে ঐ পাড়ের সাথে রয়েছে তাদের নাড়ির সম্পর্ক। বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতেই সর্বগ্রাসী হয়ে উঠে তিস্তা। এতে ঘর ছাড়া হয় বহু পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত রবিবার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ির ২ নম্বর স্পার বাঁধটির ৪০মিটার অংশ ধসে গেছে। এতে তিস্তার নতুন চ্যানেল তৈরি হয়েছে। তবে এই বাধঁটি বিলীন হয়ে গেলে হাজার হাজার মানুষ হারাবে তাদের বসতভিটা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া পরিবারগুলো বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। খাদ্য আর নিরাপদ পানি সংকটে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। পানি কমায় নদীতে চর ভেসে উঠেছে। ঘর বাড়ি হারানো পরিবারগুলোর সুখে কাটানো দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি।
নীলফামারী ডালিয়া ডিভিশন পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ী এলাকায় সলিট স্পার দুই এর ৪০মিটার অংশ ধসে গেছে । জরুরী ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু উজানের ঢলেন কারনে বাঁধটি রক্ষা করতে পারিনি। তবে স্পারটির যে বাকি অংশটুকু রয়েছে সেটি রক্ষার্থে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। স্পারটিকে রক্ষা করতে না পারলে ডান তীর বাঁধ পড়বে হুমকির মুখে।