ডেস্ক রিপোর্ট
চলতি মাসে তালেবানরা আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে দেশটির মধ্যে অশান্তি শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে মানবিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আর তালেবানরা তাদের প্রদেশকে দখল করার পর শত শত বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবার কাবুল পার্কে গরমের মধ্যে শিবির স্থাপন করছে। তারা খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য ভিক্ষা করছে। পার্কে পরিবারসহ অনেকে আটকে রয়েছে।
পার্কে জাহিদা বিবি নামে একজনের সঙ্গে কথা হয় আল-জাজিরার। তিনি একজন গৃহবধূ। বড় পরিবারের সাথে জ্বলন্ত সূর্যের নিচে বসে থাকা জাহিদা বলছেন, আমি খারাপ অবস্থায় আছি। আমার মাথা ব্যথা করছে। আমার খুব খারাপ লাগছে এবং আমার পেটে কিছুই নেই।
উত্তর আফগানিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত আহমেদ ওয়াসিম বলেন, পার্কে যারা আছেন তারা আশা করছেন কেন্দ্রীয় সরকার মনোযোগ দেবে। আমরা একটি খোলা মাঠে গরমের মধ্যে আছি।
তালেবানের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তারা পার্কের লোকজন এবং বিমানবন্দরে অন্যদের খাবার সরবরাহ করছে না। কারণ এতে আরও বেশি জনসমাগম ঘটবে। আর তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত বলে মনে করেছেন তিনি।
উত্তর আফগানিস্তানের ফালওয়ান সমীর বলেন, তার নিজ শহরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার পর তার পরিবার কাবুলে এসেছিল। সেখানে অনেক যুদ্ধ এবং বোমা হামলাও হয়েছিল। এজন্য তারা এখানে এসেছে। ঘরগুলোও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল এবং তারা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে সাহায্যের প্রয়োজন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী সমস্ত আফগান শিশুরা তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। সুতরাং দেশটিকে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য সহায়তার জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
অন্যদিকে তালেবান জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেছে, এটা মানবিক কাজ। তারা এই কাজ চালিয়ে যেতে পারে।