ডেস্ক রিপোর্ট
আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতাগ্রহণের ষষ্ট দিন শুক্রবারে কাবুল বিমানবন্দরে আবারও হাজার হাজার আফগান ভিড় করেন। বিবিসির খবরে বলা হয়, এতে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিন আফগান বংশদ্ভূত যুক্তরাজ্যের অনেক নাগরিক বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা চালান। তারা বিমানবন্দরের কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে থেকে যুক্তরাজ্যের লাল, কালো পাসপোর্ট উঁচিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের দৃষ্টি আকর্ষণেরও চেষ্টা চালান।
অনেকেই শিশু-সন্তান নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হন। তাদের চোখেমুখে আতঙ্ক, ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তা। তারা কি পারবেন পশ্চিমের যে দেশে তারা যেতে চাইছেন, সেখানে পৌঁছাতে?
টেলিভিশনে নারীরা যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছেন, তা নিয়ে তালেবানরা আপত্তি জানিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আফগানিস্তানের বহুল প্রচারিত টেলিভিশন তুলো টিভির সাদ মোহসেনি বলেন, তালেবানরা তাদের ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যেসব পোশাক পরে তারা টেলিশনের উপস্থাপিত হচ্ছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
আফগানিস্তানের দখল তালেবানদের হাতে থাকলেও কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ এখনো মার্কিন সেনাদের হাতেই রয়েছে। তারা দ্রুততার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক আফগানসহ দেশটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের সামরিক বিমানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে গত রোববার থেকে প্রায় ৭ হাজার আফগানের পুনর্বাসন করেছে দেশটি। বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তারা আফগানিস্তানের প্রতিবেশি দেশগুলোকে শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বলেছে।
এর আগে গত সোমবার কাবুল বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক আফগান দেশ ছাড়তে জড়ো হলে গুলি ও পদদলিত হয়ে অন্তত ১২ জন মারা যান। দুজন মারা গেছেন বিমান থেকে পড়ে। তারা বিমানের চাকার খাঁজে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সেনাদের যারা সহযোগিতা করেছেন, এমন আফগানদের চিহ্নিত করতে তালেবানরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে।
বিবিসি জানায়, মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ ব্যাক্তিকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে তালেবান।
এ পরিস্থিতি খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি। তারা বলছে, আফগানিস্তানে ‘ভয়ঙ্কর মানবিক সংকট’ দেখা দিতে পারে।