মুক্তজমিন ডেস্ক
ঘরে বসে টিকা নিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না
‘বিশেষ কাজ থাকায়’ বাসায় বসে করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন রাজশাহীর তানোর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না। বাসায় বসে উপজেলা চেয়ারম্যানের টিকা নেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে অনেকে বলছেন, ‘তিনি জনপ্রতিনিধি। তিনি সবাইকে টিকাগ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে গিয়ে সশরীরে টিকা নিতে পারতেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, ‘আগেই করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছি। দ্বিতীয় ডোজ ৩১ মে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অসুখের কারণে নেওয়া হয়নি। কাল বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কাজ থাকায় সেখানে আমার থাকা হবে না। এজন্য মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বাসায় দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।’
রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার বলেন, ‘বাসায় বসে ভ্যাকসিন নেওয়াটা ঠিক হয়নি। তবে কেন, কীভাবে এবং কী কারণে টিকা বাসায় দেওয়া হলো, বিষয়টি জানার জন্য তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (টিএইচও) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।’
এ প্রসঙ্গে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাঁসদাক বলেন, ‘নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার (চেয়ারম্যান) বাসার দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুইজন কর্মী গিয়ে চেয়ারম্যানকে টিকা দিয়ে এসেছেন। টিকাদানকর্মী জহির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে আরেক কর্মী নিশান টিকা পুশ করেছেন। বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যানের টিকা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তিনি থাকতে পারবেন না বলে আগেভাগেই তার বাসায় টিকাদানকর্মী পাঠানো হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জাকির হোসেন রোডের একটি বাসায়ও বেআইনিভাবে ভ্যাকসিন নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ আগস্ট ঘরে বসে টিকা নেওয়ার ছবি ও সহযোগিতাকারীকে ধন্যবাদ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন টিকাগ্রহণকারী মো. হাসান। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ফেসবুকে ছবি পোস্টের পর হাসান নামের সেই যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবারক আলী নামে তার এক বন্ধুকেও আটক করা হয়।
এই ঘটনায় চারজনকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জোনাল কর্মকর্তা তপন কুমার চক্রবর্তী। মামলার চার আসামি হলেন- মো. হাসান, মোবারক আলী, সাজ্জাদ ও বিষু দে। এদের মধ্যে বিষু দে চসিকের মোস্তফা হাকিম মাতৃসদন হাসপাতালে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। ভাইরাল ছবিতে তাকে করোনা টিকা পুশ করতে দেখা গেছে।