শিরোনাম :
যেকোনো মূল্যে নেতানিয়াহুকে হত্যা করতে চায় ইরান সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই:সালাহউদ্দিন আহমদ জ্বালানি তেল বিতরণে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে যত আলোচনা ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ: কোন দেশে কত মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি জিয়া পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনাল ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন

সেনা-পুলিশে নিয়োগের আগে ‘সতীত্ব’ পরীক্ষা করে যে দেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট

জনসংখ্যার নিরিখে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গাও। কিন্তু জানেন কি এই দেশ আরও একটি কারণে বিশ্বের নজরে রয়েছে। সেখানে আজও ‘সতীত্বের পরীক্ষা’ দিতে হয় নারীদের!

 

গত পাঁচ দশক ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের উপর এ নিয়ম চলে আসছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির নারী যদি পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান, তা হলে যোগ্যতা পরীক্ষায় তাদের প্রথমে ‘সতীত্বের প্রমাণ’ দিতে হয়!

 

‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নামে পরিচিত এ পরীক্ষা শুধু নারীদের মানসিকভাবেই বিপর্যস্ত করে তোলে তা-ই নয়, অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক এ পদ্ধতিতে নারীদের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়। অথচ পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে গেলে পুরুষদের এমন কোনও প্রমাণ দিতে হয় না।

 

চিকিৎসক (পুরুষ-নারী নির্বিশেষে) নারীদের হাইমেন পর্দা সুরক্ষিত রয়েছে কি না পরীক্ষা করেন। পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ফলে এ পর্দাটি ছিঁড়ে যায়। পর্দা ঠিকঠাক না থাকা মানেই ধরে নেওয়া হয় ওই নারী যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন। যদিও চিকিৎসকদের মতে, এ পর্দা আরও অনেক কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

এ পদক্ষেপ নারীদের উপর ১৯৬৫ সাল থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তখন থেকেই দেশের ভেতরে এবং বাইরে এ নিয়ে সরব হতে শুরু করেছিলেন নারীরা। নানা সময় এর সমালোচনা হয়েছে বিভিন্ন স্তরে।

 

আবার উল্টো দিকও রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর অনেক অফিসার আবার এর ‘গুরুত্ব’ বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বিশ্বকে। উচ্চপদস্থ অফিসারদের যুক্তি ছিল, একজন নারী যিনি সেনা হিসাবে দেশের সেবা করতে চান তাকে মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত দৃঢ় হতে হবে। তাদের দাবি, ‘সতীত্ব’ই নাকি কোনও মহিলার দৃঢ় মানসিকতার পরিচয়।

 

১৯৯৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার কমিশন এ নিয়মকে বেআইনি ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশন এ পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দাবি করে। কিন্তু এত কিছুর পরও চুপ ছিল ইন্দোনেশিয়া প্রশাসন।

 

২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়া পুলিশে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি ফের ঝড় তোলে। তাতে পরিষ্কার লেখা ছিল, যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি নারীদের ‘সতীত্বের’ প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। তাতে এও লেখা ছিল যে, যে সব নারী নিজেদের পুলিশ হিসাবে দেখতে চান তারা যেন ছোট থেকেই ‘সতীত্ব’ বজায় রাখার মানসিকতা তৈরি করে নেন।

 

শুধু পুলিশ ও সেনাবাহিনীতেই নয়, ২০১৩ সাল নাগাদ ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু স্কুলও ছাত্রী ভর্তির সময় এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়।

 

এর পর ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসকরাও এর বিরুদ্ধে সরব হন। হাইমেন পর্দার পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে কখনও কোনও নারীর সতীত্বের প্রমাণ হতে পারে না, সাফ জানিয়ে দেন তারা।

 

কোনও নারীর হাইমেন পর্দা নানা কারণে ছিঁড়ে যেতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পর্দা ছেঁড়ার প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ না করেই ওই নারী কোনও পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন ধরে নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল চিকিৎসক মহল।

 

২০১৫ সালে ইউরোপীয় কমিশন এই অভ্যাসকে ‘বৈষম্যমূলক এবং অবমাননাকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন চিকিৎসক নিলা ময়লোয়েক। তিনিও সে সময় নিয়মের সমালোচনা করেন।

 

প্রকাশ্যেই তার মন্তব্য ছিল, ‘পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে নারী নিয়োগে এ নিয়মের প্রয়োজনীয়তা, পদ্ধতি এবং ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।’

 

২০১৯ সালে পশ্চিম জাভার এক জিমন্যাস্টকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি নাকি ‘সতীত্ব’ হারিয়েছিলেন।

 

২০১৯ সালের এ ঘটনার পর চাপা অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করতে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ায়। আন্তর্জাতিক স্তর থেকেও এ অবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার চাপ বাড়তে থাকে ইন্দোনেশিয়ার উপর।

 

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চুপ করে থাকা প্রশাসন এ বার নড়েচড়ে বসেছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার আভাস দিয়েছেন সে দেশের এক সেনাকর্তা। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
All rights reserved www.mzamin.news Copyright © 2023